ইমান আলী। প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের। তবে দীর্ঘ এত বছরে খুব একটা পরিচিতি না মিললেও সম্প্রতি একটি সংলাপ হুট করেই জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তবে এই জগতে মেলেনি অর্থনৈতিক মুক্তি।
ইমান আলীর মত আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে এসেছেন রিকশা চালক মো. হুমায়ুন। চার মাসে গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও, খুব একটা ফলোয়ার তৈরি হয়নি। ফলে আসেনি মনিটাইজেশন।
কনটেন্ট কিয়েটর ইমান আলী বলেন, ‘ভাইরাল যে এইবার হয়েছি, অল্প কিছু ভিউতেই আমি ভাইরাল হয়ে গেছি। এর আগেও আমার অনেক বড় বড় ভিডিওর ভিউ আছে, আমি ভাইরাল হইতে পারি নাই। এখন ওই যে ‘রাগ করলা’ কথাটা কইয়াই আমি মনে করেন ভাইরাল হয়ে গেছি। কিন্তু আসলে আমি ভাইরাল হওয়ার পরে মানুষে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা করছে যে, আমি মনে হয় কোটি কোটি টাকা ইনকাম করতেছি, লাখ লাখ টাকা দিন পাইতেছি। কিন্তু না ভাই, পাই না।’
কনটেন্ট কিয়েটর হুমায়ন বলেন, ‘চার মাস থেকে করছি, এখন পর্যন্ত আমার কোনো রিচ বা আমি এখনও সফলতা পাইনি। আমি আর্ন করতে পারিনি টাকা। টাকা আমি আর্ন করতে পারলে, আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করব।’
গেল কয়েক বছরে হুমড়ি খেয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে আসা বেশিরভাগের গল্প টা মো. হুমায়ুন ও ইমান আলীর মত।
ধারণা করা হয় দেশে প্রায় ১২ লাখের বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছে। যাদের বেশিভাগই ব্লগিং বা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং ও পেশা হিসেবেও কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে বেছে নিয়েছে। প্রশ্ন হলো এখান থেকে তাদের আয় কেমন?
আরও পড়ুন:
কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে সফল, এমন কয়েকজন পরিচিত মুখের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এখানে সফলতার পাশাপাশি হেরে যাওয়ার গল্পটাই বেশি।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ওবাইদুর রহমান রবিন বলেন, ‘মানুষ এখানে যেরকম আসছে, আসার পরে তাদের কোয়ালিটি কন্টেন্ট মেইনটেইন করা এবং এডিট করা এবং এ সবকিছু কিন্তু ধরে রাখতে পারবে না। ধরে রাখতে না পারার কারণে যেটা হবে যে, তারা ইজিলি এ ফিল্ড থেকে ঝরে যাবে।’
কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বাস্তবতা যখন এমন, তখন হুমড়ি খেয়ে এই পেশায় আসা কতটা স্বাভাবিক? ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করা ও এসবের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এখানে যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হয়।
ডিজিটাল মিডিয়া ট্রেইনার অমৃত মলঙ্গী বলেন, ‘ফেসবুক এতটাই অনিশ্চিত যে আজকে হয়তো যার মনিটাইজেশন আছে, কালকে হয়তো তার নাই। বাংলাদেশের যে স্টেজে, যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে আমরা এটাই সবাইকে বলে থাকি যে, আপনি মাত্র কন্টেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে নিলে আপনার জন্য একটা বিপদ হলেও হতে পারে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ মো. জুবায়ের বলেন, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে এসে কেউ লাখ টাকা আয় করছে, কেউ বা হাজার টাকা আয় করছে। তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি করা। মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি না করলে এই পেশায় টিকে থাকা কিংবা দীর্ঘ সময় টিকে থাকা অসম্ভব।’
প্রযুক্তির সহজ লভ্যতায় কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বর্তমান যুগে আকর্ষণীয় এবং গ্ল্যামারাস পেশা। তবে ভেতরের বাস্তবতায় এটি আসলে একটি অনিশ্চিত গোলকধাঁধা। এখানে যেমন রাতারাতি তারকা হওয়ার গল্প আছে, ঠিক তেমনি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে তীব্র মানসিক চাপ, আর্থিক অস্থিরতা ও প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়ার ভয়।





