সোমবার রাতে কিয়েভের ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পেচেরস্ক লাভরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে স্তব্ধ কিয়েভের প্রাণকেন্দ্র।
রয়টার্সে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পেচেরস্ক মঠ কমপ্লেক্সের ক্যাথেড্রালের গম্বুজ ও টাওয়ারের নিচে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। হাজার বছরের পুরনো এই স্থাপনাকে রক্ষায় চলে প্রাণপণ চেষ্টা।
একাদশ শতকে প্রতিষ্ঠিত কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি ইউক্রেনীয় জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই মঠকে ইউক্রেনীয় শিল্প ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে ২০২৩ সালেই এটিকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ইন ডেঞ্জার' তালিকায় যুক্ত করা হয়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কিয়েভকে লক্ষ করে ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন পাঠিয়েছে মস্কো। তবে এর মধ্যে ৫০ টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৮২ টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইউক্রেনের।
রাশিয়ার এ হামলায় অন্তত বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার পরিবার।
রাজধানীর বাইরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভেও চালানো হয়েছে ব্যাপক হামলা। সেখানে গোলাবর্ষণে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রুশ হামলার আতঙ্কে মেট্রো টানেলের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন কিয়েভের বাসিন্দারা। সেখানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করছেন তারা।
এ হামলার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।





