দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ তাদের উপনিবেশ দেশগুলোতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। শীতল যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের নিজ নিজ প্রভাব বলয়ের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। তবে বর্তমানে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ শক্তিধর দেশগুলো।
এককভাবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ও সামরিক বিশ্লেষদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮০ দেশে প্রায় ৭৫০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে। যদিও পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী ভিন্ন দেশে ১২৮টি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, কুয়েত, জর্ডান ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় ঘাঁটি রয়েছে। মূলত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও উত্তর কোরিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এ শক্তিশালী সামরিক নেটওয়ার্কটি গড়েছে।
আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কৌশলগত অংশ হিসেবে এখানে ব্যাপক মার্কিন উপস্থিতি রয়েছে। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি এ অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি, যেখানে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। এছাড়াও, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর অবস্থিত। পাশাপাশি কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ইরাক এবং সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সক্রিয় ঘাঁটি রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে জাপানে। এশিয়ার দেশটিতে প্রায় ১২০টি ঘাঁটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৮০টি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। এখানকার ‘ক্যাম্প হামফ্রিজ’ আমেরিকার বৃহত্তম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতে আছে ১২২টি মার্কিন ঘাঁটি। ইতালি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়ার মতো দেশগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ডের কেন্দ্র হিসেবে জিবুতিতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, জঙ্গিবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনবহর মোতায়েন রয়েছে। এমনকি সেখানে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালিসহ আরও কয়েকটি দেশের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরপরই সবচেয়ে বেশি বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাজ্যের। বিশেষ করে সাইপ্রাস, কেনিয়া, বাহরাইন, ওমান এবং বিভিন্ন ব্রিটিশ সামুদ্রিক অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। এরপরই এগিয়ে আছে রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কিছু অঞ্চলসহ ১৪টিরও বেশি দেশে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
এছাড়াও, তুরস্ক, ভারত এবং ফ্রান্স এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘাঁটির মালিক, যেগুলো তারা এখনও ব্যবহার করে। চীন, ইরান, ইতালি, জাপান, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বল্প সংখ্যক বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে।





