জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রেফারি বাঁশি বাজাতেই শুরু হয় মাঠের যুদ্ধ। ঘরের মাঠ টরন্টোর চেনা দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে কানাডা। তবে ম্যাচের ২০তম মিনিটে কানাডাকে স্তব্ধ করে দেয় বসনিয়া।
কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে সিয়াদ কোলাসিনাচের ফ্লিকে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন বসনিয়ান ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ। আর এই গোলের মাধ্যমে কানাডার মাটিতে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করার অনন্য রেকর্ড লেখা হয় লুকিচের নামে।
১-০ তে পিছিয়ে পড়ে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধ জুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোল মিসের মহড়ায় আক্ষেপে পোড়ে গ্যালারি।
টানটান উত্তেজনার প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, ম্যাচ হয়ে ওঠে চরম উত্তপ্ত। মেজাজ হারিয়ে ‘হলুদ কার্ড’ দেখেন বসনিয়ার ডেমিরোভিচ ও গোলদাতা জোভো লুকিচ। ১-০ তে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কানাডা।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের দেখা না পেয়ে ডাগআউটে কানাডার কোচ জেসি মার্শের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। আক্রমণের ধার বাড়াতে মাঠে নামান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার কাইল লারিনকে। আর তাতেই ফেরে ম্যাচের ভাগ্য।
৭৭তম মিনিটে রিচি লারিয়ার বাড়ানো চমৎকার পাস থেকে নিখুঁত এক প্লেসিং শটে বসনিয়ার জাল কাঁপান কাইল লারিন, উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো টরন্টো।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা রূপ নেয় চরমে। ইনজুরি টাইমে কানাডার প্রমিজ ডেভিড আরও একবার গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। শেষ মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার নিকোলা কাটিচ দেখেন আরও এক হলুদ কার্ড, তাতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয় ১৩ কর্নার আর ৩০ ফাউলের ম্যাচ।
আর এ ড্রয়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সব ম্যাচ হারা কানাডা, তাদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো পয়েন্ট পাওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করলো।
২০১৪ বিশ্বকাপে ১ জয় আর দুই পরাজয় দিয়ে আসর শেষ করলেও দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এক পয়েন্ট দিয়ে শুরু করলো তাদের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা।





