বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমার ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও আছে বাস্তবায়নের শঙ্কা

বাজার
বাজার | ছবি : এখন টিভি
0

বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যে দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার কোন প্রভাবই বাজারে। উল্টো গেলো সপ্তাহের চেয়ে প্রকারভেদে বেড়েছে চাল, ডাল ও মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, দাম কমানোর ক্ষেত্রে আরও সময় লাগবে। দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তকে ক্রেতারা সাধুবাদ জানালেও বাস্তবায়ন নিয়ে আছে শঙ্কা।

সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি ছিলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণায় ৬০ ধরণের নিত্যপণ্যের দাম কমানোর খবর। যার মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ আদা রসুন, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলের মতো পণ্য।

তবে বাজেট ঘোষণার একদিন পর এর কোনো প্রভাব নেই বাজারে। উল্টো দেখা যায় গেলো কয়েকদিনের চেয়ে প্রকার ভেদে বেড়েছে চালের দাম। যেমন নাজির, মিনিকেট, আতব, এসব জাতের চাল ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা ডালের প্রকারভেদেও। হাইব্রিড ডাল ৯০ ও দেশি ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পেঁয়াজ রসুন আদার দামও অপরিবর্তিত। বিক্রেতারা বলেন, দাম কমার ঘোষণার প্রভাব পড়তে আরও সময় লাগবে।

একজন দোকানদার বলেন, ‘বাজেট গতকালকে যখন দিয়েছে, বাজেট বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় এক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। যেহেতু আমরা যে পণ্যটা ক্রয় করেছি, মনে করেন আমি যে দাম দিয়ে ক্রয় করেছি তার নিচে তো আর বিক্রি করতে পারবো না।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘কর কমালে লাভ হবে কি? আপনার মাল থাকতে হবে তো। মাল তো নাই আমাদের দেশে।’

আরও পড়ুন:

প্রতিবার দাম বাড়তে পারে এমন পণ্যে ঘোষণার আগেই মজুত রেখে বাড়তি দরে বিক্রির অভিযোগ থাকতো বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। অথচ এবার যেন নিত্যপণ্যে কমে বিক্রির এই ঘোষণা সম্পর্কে জানেন না তারা। যদি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ ক্রেতারা। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে আছে শঙ্কার।

ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম কমাইছে বা ট্যাক্স কমায় দিছে অনেক ক্ষেত্রে। এর রিফ্লেকশন টা কি হচ্ছে বা এর ইমপ্যাক্টটা কি হচ্ছে মার্কেটে এটা হয়তো আর সাতদিন ১০ দিন পরে বুঝতে পারবেন আদেও হচ্ছে কি না।’

এদিকে খুব একটা স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। পাঙ্গাশ, যেখানে বিক্রি হতো ১৮০ থেকে ১৭০ টাকায় সেটা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। দাম বেড়েছে তেলাপিয়া, রুইসহ ইলিশেরও। প্রকারভেদে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম।

ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘সব মাছের বাজার খারাপ হওয়ার মেইন কারণ হলো মাছ আমদানি কম। কমের কারণে মাছের দাম বেশি আর এখন তো মনে করেন সিজন না, আনসিজন। এখন পুরান মাছও বুঝা যাইতাছে।’

তবে দাম কমেছে পেপে, পটল, করোল্লাসহ একাধিক কাঁচাপণ্য। অপরিবর্তিত আছে মুরগির মাংসের দামও।

এফএস