আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন জেনেভা হ্রদের তীরে এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে ফ্রান্স, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা সম্মেলনে মিলিত হবেন। এতে যোগ দেবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও। কূটনীতিকেরা বলছেন, এবারের সম্মেলনের মূল আলোচনা হবে সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান জশ লিপস্কি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা পছন্দ করেন, ম্যাক্রোঁ তার ওপর ভিত্তি করেই আলোচ্যসূচি তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।' এমনকি ট্রাম্পের জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচি বজায় রাখতে সম্মেলনের তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। ফরাসি কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প পুরো সম্মেলনে থাকলেই এটি সফল হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জি-৭ সম্মেলন অসমাপ্ত রেখেই চলে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সম্মেলনের সফলতা অনেকটা নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বর্তমানে চরম উত্তেজনার মুখে রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন ইরান যেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে, আটকে রাখা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকেরা বলছেন, সম্মেলনের আগেই ইরানের সাথে কোনো চুক্তি হলে ট্রাম্পের মেজাজ অনেকটাই ভালো থাকবে।
ফ্রান্স সম্মেলনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও মিসরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, ইরান সংকটের কারণে ইউক্রেন ইস্যু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এই সুযোগে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে রাশিয়ার ব্যাপারে নমনীয় হওয়া ঠিক হবে না।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভিক্টর চা বলেন, 'আমরা ক্রমশ দেখছি, ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই কীভাবে চলা যায়, তা ভাবতে শুরু করছে।'
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা নিয়েও আলোচনা হবে সম্মেলনে। চীন অতিরিক্ত উৎপাদন করছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ভোগ করছে এবং ইউরোপ বিনিয়োগে পিছিয়ে আছে—এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে ফ্রান্স এটিকে সকলের 'ভাগের দায়িত্ব' হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আলোচনায় যোগ দিতে ব্রাজিল, ভারত, কেনিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এবারের সম্মেলনে কোনো বিস্তারিত যৌথ ঘোষণার পরিবর্তে খনিজ সম্পদ, অভিবাসন ও মাদক পাচারের মতো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলাদা বিবৃতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।





 reacts as he holds a picture of Sonam Wangchuk-320x167.webp)