হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পছন্দ করি। সংখ্যাগুলো চমৎকার ছিল। জানেন আমি আসলে কী পছন্দ করি? আমি এই মূল্যস্ফীতি পছন্দ করি।’ তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ শেষ হলে এই দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ নিচে নেমে আসবে। পরে অবশ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যুদ্ধ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম—তিনি এটিই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যস্ফীতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে অর্থনীতিই এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়। মে মাসে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর সময় প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ছিল ২ ডলার ৯৮ সেন্ট, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ১৫ সেন্টে।
ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে ‘লক্ষ লক্ষ ব্যারেল’ তেল জব্দ করার অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি থাকায় সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফেডের নতুন গভর্নর কেভিন ওয়ার্শ আগামী সপ্তাহে সুদহার নিয়ে তার প্রথম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘জনগণের প্রতি তার (ট্রাম্পের) অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।’ গত মাসেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি তাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করবে না।





