প্রকল্প আছে, বাস্তবায়ন নেই; থমকে উত্তরের জনপথের উন্নয়ন

নীলফারির উন্নয়নে ধীর গতি
নীলফারির উন্নয়নে ধীর গতি | ছবি: এখন টিভি
0

মুখ থুবড়ে পড়েছে নীলফামারীর উন্নয়নের সম্ভাবনা। একের পর এক বড় প্রকল্পের ঘোষণা এলেও বাস্তবায়নের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে উত্তরের মানুষ। অবকাঠামো ও সংযোগ পথ থাকলেও চিলাহাটি স্থলবন্দর পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখন দুঃস্বপ্ন। আর এবার অনিশ্চয়তার মুখে সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনাও। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব যোগাযোগ ও বাণিজ্যপথের উন্নয়ন না হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি কখনোই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার চিলাহাটি। ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার ঘোষণার বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি কার্যক্রম। উপরন্তু ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট অন্তবর্তীকালীন সরকারের ঘোষণায় বন্ধ হয়ে যায় চিলাহাটি স্থলবন্দরের পুরো প্রকল্প।

একইভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগ। প্রায় ৫৫ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২০ সালে পুনরায় রেল যোগাযোগ চালু হলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় এই রেলপথ। আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক রেল স্টেশন তৈরিসহ এ প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্ধের কারণেই নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে একটা সম্পর্ক ছিলো ব্যবসা-বাণিজ্য, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

এরই মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা নিয়ে। নানান পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রশ্ন উঠছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি নোটিশে প্রায় ৯বছর বন্ধ এ এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৫৩৫ একর জমির কেনা-বেচা।

একজন এলাকাবাসী বলেন, ‘আমাদের মেইন উদ্দেশ্য হলো, আমরা আট বছর ধরে ঝুলে আছি। আমাদের ইয়েস অর নো একটা বলা হোক। আমরা না বাসা করতে পারছি, না জমি বিক্রি করতে পারছি। আমরা বিরাট অসুবিধায় আছি। সৈয়দপুরবাসী যত আছে, প্রায় শ্রমিক থেকে নিয়ে দিনখাটা মানুষ, সব লোক টাকা ইনভেস্ট করে বসে ওখানেই আছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি সচল করতে যোগাযোগ ও বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ফারাক বাড়তে থাকায় হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য তারিকুল আলম তারিক বলেন, ‘আশেপাশের যে দেশগুলোর সাথে একটা বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং বিদেশি বিনিয়োগেরও একটা বিশাল সম্ভাবনা ছিলো, যদি এটা একটা আঞ্চলিক হাব হতো। তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ত এবং এখানে বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি আরও হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিলো।’

এক সময় যে প্রকল্পগুলোকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিল নীলফামারীবাসী, আজ সেগুলোর ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ঢাকা। উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধা মানুষের সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে হতাশায়। দ্রুত এ প্রকল্পগুলা বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয়দের।

জেআর