গুলশানের একটি বাসার ম্যানেজার সামসুর রহমান লিটন। প্রতিমাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় তাকে। ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন আর বাড়তি সময় বাঁচাতে তিনি বেছে নিয়েছেন ডিজিটাল লেনদেন।
লিটন বলেন, ‘ব্যাংকে দীর্ঘ সময় লাইনে থাকার পরে ইলেকট্রিক বিল দেওয়ার পরে ওইটার মেসেজটা আমি পরবর্তী মাস ছাড়া বুঝতে পারি না যে আসলে জমা হয়েছে কিনা। আর অনলাইনে করলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে মেসেজ যায়।’
অনেকেরই জীবনকে সহজ ও গতিশীল করে তুলেছে অনলাইন পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি। ব্যাংকে যাওয়া ছাড়াই টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা, ভাতা প্রাপ্তি, সঞ্চয় ও ঋণের মতো সেবাগুলো মিলছে।
বাসায় বসেই কেনাকাটা থেকে পেমেন্টসহ সব কিছু করা যায়। তাছাড়া বাড়তি কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না বলে জানান সাধারণ মানুষ।
দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি। এর মধ্যে সচল প্রায় ৯ কোটি। বিকাশ, নগদ, রকেট, শিউরক্যাশ ব্যবহার করে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা।
সিটি ব্যাংকের হেড অব ডিজিটাল ব্যাংকিং সৈয়দ ইব্রাহিম সাজিদ বলেন, ‘কয়েক কোটি গ্রাহক এখন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করছে, আর বিকাশ-নগদে তো আরও আট-দশ কোটি জনগণ আছেন। সব মিলিয়েই কিন্তু বাংলাদেশের যারা অ্যাডাল্ট পপুলেশন যদি বলি, তার মধ্যেই কিন্তু একটা বড় সেগমেন্ট এখন কিন্তু ডিজিটালি চলে এসেছে।’
আরও পড়ুন
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক আরও বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা, গ্রাহক পর্যায়ে অর্থনৈতিক স্বাক্ষরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের একটু অ্যাওয়ারনেস বা একটু ডিজিটাল লিটারেসি, এইটা যদি সার্বিকভাবে দেশের সকল যারা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেয়া হতো, তাহলে দেখা যেত যে অ্যাডাপশনের রেটটা অনেক বেশি হতো।’
সরকারও রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করছে। জুলাই থেকে সব মার্চেন্ট পয়েন্টে একই কিউআর কোড ব্যবহার করা হবে।
বাংলাদেশে ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছি এবং আগামী জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে বাংলা কিউআরকে আমরা বাধ্যতামূলক করেছি। এর ফলে ট্রানজেকশনটা আরও স্মুথ হবে।’
তবে অর্থনীতি গবেষকরা বলছেন, ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে এ খাতের নির্দিষ্ট সাত থেকে আটটি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতের ইউপিআই বা ব্রাজিলের পিক্সেল যেভাবে মানুষের কাছে চলে গিয়েছে, আমরা কিন্তু কিউআর কোডকে সেভাবে মানুষের কাছে নিতে পারি নাই। তো এ সেক্টরটাকে যদি আপনি ক্যাশলেস আনতে পারতেন, তাহলে সেই জায়গায় ইকোনমিক গভর্ন্যান্স অনেক দাঁড়িয়ে যেত। আপনার ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপরে ফোকাস করতে হবে। আপনার ন্যানো লোনের ওপরে ফোকাস করতে হবে। আপনার কিউআর কোডের ওপরে ফোকাস করতে হবে এবং আপনার অনলাইন ব্যাংকিং এবং কার্ডসের ওপরে ফোকাস করতে হবে।’
দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার হলেও বড় চ্যালেঞ্জ আস্থা, সেবা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্যাশলেস অর্থনীতি সফলে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়।




