ক্যামেরার পেছনে ক্লান্তিহীন ছুটে চলা, আর স্ক্রিনের সামনে কোটি মানুষের ভালোবাসা। একটি মাত্র নিখুঁত কন্টেন্ট উপহার দিতে ক্রিয়েটরদের পার করতে হয় এক দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।
শুটিং, লাইটিং থেকে শুরু করে ভয়েস ওভার আর এডিটিং পুরো একটি টিমের দিনের পর দিন খাটুনির পরই তৈরি হয় একেকটি জনপ্রিয় ভিডিও কনটেন্ট।
কিন্তু এ চেনা পরিশ্রমে আচমকাই যেন ভাগ বসিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এখন আর বিশাল টিম বা দামি ক্যামেরার প্রয়োজন হচ্ছে না, কেবল টেক্সট প্রম্পট বা কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে চোখ ধাঁধানো সব ভিজ্যুয়াল।
প্রযুক্তির এ অতি মানবীয় গতি দেখে অনেক প্রতিষ্ঠিত ক্রিয়েটরও চিন্তিত। তবে কী হারিয়ে যাবে তাদের এ এতদিনের কষ্টার্জিত ক্যারিয়ার?
ক্রিয়েটরা জানান, এআইয়ের কারণে তাদের অনেকের ক্যারিয়ার কিছুটা ক্ষতির মুখে। তাছাড়া বর্তমানে এআই ভিডিওতে ভিইউ হচ্ছে বেশ।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ধারণা, মানুষ এ আই কন্টেন্ট পছন্দ করলেও বাস্তব অনুভূতির স্বাদ খুব একটা পান না। ফলে জীবনের সুখ-দুঃখের অনুভূতির জন্য তাদের কন্টেন্টেই ফিরতে হবে মানুষকে।
আরও পড়ুন
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাসিবুল হাসান শান্ত বলেন, একটা ছবির যদি সব কিছু কার্টুন দিয়ে তৈরি করা হয় তাহলে মানুষ তা দেখবে না। বাচ্চারা হয়তো দেখবে, কিন্তু বড়রা দেখবে না। সবাই একটু রিয়েলিস্টিক পছন্দ করে।’
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই কন্টেন্টকে সম্ভাবনায় রূপ দেয়া সম্ভব। তবে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর বাস্তবতার সংযোগ ঘটাতে পারলেই আগামীতে মিলবে সাফল্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষক ওবায়দুর রহমান রবিন বলেন, ‘যে সব জায়গায় ফুটেজ নেয়া যাবে না সেসব জায়গার ফুটেজ আপনি চাইলে বানিয়ে নিতে পারবেন। আগামীতে আরও বাড়বে এআইয়ের ব্যবহার।’
ডিজিটাল মিডিয়া ট্রেইনার অমৃত মলঙ্গী বলেন, ‘যারা এআই ও নিজের ভিডিও ব্যবহার করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং করছেন তারা ভালো করছেন। তা আগামীতেও করবেন।’
এখনি এআই দিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়শনে খুব একটা সুখবর মেলেনি। আছে মনিটাইজেশনের জটিলতা। ফলে ক্যারিয়ার হিসেবে এ আই কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশেষচজ্ঞ মো. জুবায়ের বলেন, ‘যদি এআই ভিডিওকে মনিটাইযেশন দেয়া হয় তাহলে অনেকের জন্য ভালো হবে। আর ভবিষ্যতে এআই ভিডিও যারা তৈরি করতে পারবে তারা অনেক অংশে এগিয়ে থাকবে।’
কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে এআই এর এ জোয়ারে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ডিপফেক, ফেক নিউজ এবং কপিরাইট জটিলতা। দিনশেষে, এআই হয়তো মানুষের কাজ কেড়ে নেবে না। তবে যে ক্রিয়েটর প্রযুক্তির এই নতুন ট্রেন্ডকে লুফে নিয়ে যারা নিজের সৃজনশীলতাকে ঝালিয়ে নিতে পারবেন, আগামী দিনের রাজত্বটা হয়ত কেবলই তাদের।





