কোনো রকম দয়া না দেখানোর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ রায়: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

রামিসা হত্যা মামলা

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী | ছবি: সংগৃহীত
0

শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ে ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।

আজ (রোববার, ৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় শেষে প্রতিক্রিয়ায় সময় সাংবাদিকদের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটিত হলে কোনো রকম দয়া না দেখানোর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ রায়। একই সঙ্গে, এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, এটি সমাজের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। এমন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিশুসহ কেউই নিরাপদ নয়।

রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, তারা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকর চান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

আরও পড়ুন:

এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর ২ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান।

পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

এসএইচ