আড্রিয়াটিক উপকূলে রিসোর্ট নিয়ে পরিবেশবিদদের শঙ্কা

রিসোর্ট নিয়ে পরিবেশবিদদের শঙ্কা
রিসোর্ট নিয়ে পরিবেশবিদদের শঙ্কা | ছবি: আল জাজিরা
0

আলবেনিয়ার পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল আড্রিয়াটিক উপকূলে বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণ করা হলে, তা জীববৈচিত্রের জন্য ধ্বংসের কারণ হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পাল্টা দাবি, পরিবেশগত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে আলবেনিয়ায় পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলেও মনে করছেন রামা।

ঘরে- বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনিতেই ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প। আর তাতে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে জামাতা জ্যারেড কুশনারের আলবেনিয়ায় নতুন রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্প।

প্রকল্পটি ঘিরে আলবেনিয়ায় বিক্ষোভের মাঝেই কুশনারের পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেতে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে যোগ দেন ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা। জানান, কয়েক বছর আগে আলনেবিনার পশ্চিমের জনবসতিবিহীন আড্রিয়াটিক উপকূলে বন্ধুর নৌকায় চেপে ঘুরতে যান তিনি ও কুশনার। এসময় দ্বীপে সাঁতার কাটার পাশাপাশি পুরো এলাকা ঘুরে বেড়ান তারা। আর তখনই এলাকাটি ঘিরে বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তারা।

কিন্তু এতদিন পরিকল্পনাটি কাগজে-কলমে থাকলেও সম্প্রতি খননকাজের জন্য প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে বুলডোজারসহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে সৈকত এলাকায় জনসাধারনেপ্রবেশের বন্ধ করতে স্থাপন করা হয়েছে বেষ্টনী। এ নিয়ে কয়েকদিনের ধরে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা।

আরও পড়ুন:

পরিবেশবাদীদের শঙ্কা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০ হাজার কক্ষের নতুন শহর তৈরি হবে, যা অঞ্চলটিতে বিচরণ করা বণ্যপ্রানীদের জন্য বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া আকাশচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের ভিড়ে একদিকে আলবেনিয়ার নিজস্ব ইতিহাস ও প্রকৃতি যেমন ধ্বংস হবে, পাশাপাশি অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী উপকূলরেখা পদদলিত হবে। বিনষ্ট হবে ফ্লেমিঙ্গো, সিল ও সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার প্রাকৃতিক স্থান।

তবে বিক্ষোভকারীদের সব দাবিকে নাকচ করে দিয়ে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা উল্টো এর দায় মিডিয়ার ওপর চাপিয়ে দেন। তার দাবি, পরিবেশগত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পানিটি সাজানো হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে আলবেনিয়ায় পর্যটকের উপস্থিতি বাড়বে। যা উপকূলীয় এলাকায় নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

পরিকল্পনা মোতাবেক ভিয়োসা-নার্তার সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী বেষ্টিত অঞ্চলটিতে হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট ও ভিলা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এর আওতায় সাজান দ্বীপে কমিউনিস্ট আমলের একটি প্রাক্তন সামরিক ঘাঁটিকে রিসোর্টে রূপান্তরিত করা হবে। কুশনারের প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি পার্টনার্সের সঙ্গে এই মেগা প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করবে আলবেনিয়ার স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাজান রিয়েল স্টেট ডেভেলপমেন্ট।

তবে যে অ্যাড্রিয়াটিক উপকূল ঘিরে এতো আয়োজন, সেটি আলবেনিয়ার মূল্যবান জীববৈচিত্র্যপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার নীল আকাশজুড়ে থাকে ফ্লেমিঙ্গোসহ হাজার হাজার বিদেশি পাখির বিচরণ ও কলকাকলি।

এসএস