প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেলো কক্সবাজারবাসী

সিনেমা দেখার সুযোগ পেলো কক্সবাজারবাসী
সিনেমা দেখার সুযোগ পেলো কক্সবাজারবাসী | ছবি: সংগৃহীত
0

দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর আবারও বড় পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের মানুষ। করোনা মহামারীর সময় কক্সবাজারের সবশেষ চালু থাকা সিনেমা প্রদর্শন কেন্দ্র বিজিবি অডিটোরিয়ামে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন জেলার চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ‘কক্সবাজার টকিজ’।

দেশে সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধা দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এই আয়োজন করেছে কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটি। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহিদ সুভাষ হলে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে দুই দিনে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিন বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হয় দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই চলচ্চিত্র দেখতে হলে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে দর্শকদের বড় একটি অংশ ছিল তরুণ-তরুণী। দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পেয়ে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষে কথা হয় কয়েকজন দর্শকের সঙ্গে। তারা জানান, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীতে আধুনিক সিনেমা হল না থাকা একটি বড় শূন্যতা।

দর্শক দীপ্ত বিশ্বাস বলেন, ‘কক্সবাজারে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ খুবই সীমিত। আমার কখনো বড় পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো “হাওয়া” সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখে দারুণ অনুভূতি হয়েছে। আগে যেসব সিনেমা হল ছিল সেগুলো অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ বড় পর্দায় সিনেমা দেখার আগ্রহ সবসময়ই থাকে। আমরা চাই কক্সবাজারে দ্রুত একটি আধুনিক মানের সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা হোক।’

আরও পড়ুন:

তরুণ দর্শক পিয়াল দাস বলেন, ‘কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। অনেক দিন পর বড় পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা হলো। স্থায়ীভাবে একটি সিনেমা হল থাকলে তরুণ সমাজ উপকৃত হবে। মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও বেরিয়ে এসে তারা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ভালো চলচ্চিত্র মানুষের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।’

আয়োজকরা বলছেন, এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং কক্সবাজারে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি পুনর্জাগরণের একটি উদ্যোগ।

কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি রহমান মুফিজ বলেন, ‘এই আয়োজন মূলত প্রতিবাদের একটি ভাষা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “বনলতা এক্সপ্রেস” চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধা দেয়ার ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই “কক্সবাজার টকিজ”-এর আয়োজন করেছি। একই সঙ্গে আমরা দেশে সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতির চর্চা ও বিস্তার চাই।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার টকিজ নামটির পেছনেও একটি ইতিহাস রয়েছে। একসময় কক্সবাজারে “কক্সবাজার টকিজ” নামে একটি সিনেমা হল ছিল, যেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকলেও চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক আয়োজন প্রায় নেই বললেই চলে। আমরা চাই কক্সবাজারে আবারও চলচ্চিত্র সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটুক। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন:

কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘প্রথম দিনের দর্শক উপস্থিতি আমাদের অনেক বেশি আশাবাদী করেছে। আমরা চেয়েছিলাম কক্সবাজারে আবারও চলচ্চিত্র দেখার পরিবেশ তৈরি হোক। স্থানীয় মানুষ ছাড়াও এখানে চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ থাকেন, আবার সারা বছর পর্যটকও আসেন। তাদের অনেকেই জানতে চান, কক্সবাজারে কোনো সিনেমা হল নেই কেন। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, এখানে চলচ্চিত্রের দর্শক রয়েছে এবং মানুষ বড় পর্দায় সিনেমা দেখতে আগ্রহী।’

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হয়েছে ‘হাওয়া’, সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হয়েছে শাহীন দিল-রিয়াজ পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘রাকিব খান: দ্য প্রজেকশনিস্ট’ এবং সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হয়েছে মোহাম্মদ তৌকীর ইসলাম ও তার দলের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ধ্রুব হাসান পরিচালিত ‘ফাতিমা’, বিকেল সাড়ে ৫টায় ফজলে রাব্বী পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তাদাত্ম অন্বেষণ: দ্য ইটার্নাল জার্নি’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রদর্শিত হবে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বলছেন, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে কক্সবাজারে নতুন প্রজন্মের মধ্যে চলচ্চিত্রবোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিনেমা হল সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এসএস