প্রায় ৭ বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের পর এবার উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় ৭ বছর পর পিয়ংইয়ং যাচ্ছেন তিনি। পরাশক্তিধর এই দুই নেতার বৈঠক ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে পূর্ব এশিয়ায়। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।

আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আগামী ৮ ও ৯ জুন কিমের আমন্ত্রণে পিয়ংইয়ং সফর করবেন শি। ২০১৯ সালের পর এটিই হবে উত্তর কোরিয়ায় তার প্রথম সফর।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগী চীন। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ১৪শ' কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। পাশাপাশি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে তাদের। চলতি বছর সেই চুক্তির ৬৫ বছর পূর্তি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। নতুন করে সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং চীনা পর্যটক আকর্ষণে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাইতে পারেন কিম জং উন। তবে শুধু অর্থনীতি নয়, বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিও।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। এরই প্রেক্ষাপটে কিমের সঙ্গে এই বৈঠককে পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরের দিকে নজর রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের প্রত্যাশা, শি জিনপিং তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে পিয়ংইয়ংকে আবারও সংলাপের টেবিলে ফিরতে উৎসাহিত করবেন।

তবে উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। ফলে এই সফরে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়লেও নিরাপত্তা ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কতটা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অচলাবস্থা এবং চীনের কৌশলগত স্বার্থ। সব মিলিয়ে শি জিনপিংয়ের এই সফর উত্তর-পূর্ব এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি-না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

ইএ