নিহতের নাম কালাম তালুকদার (৬৫)। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত কালাম তালুকদার হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা গেছেন। এদিকে গতকালের টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুটতরাজের ঘটনা ঘটে। রাত ৮টায় গোপালপুরের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাংচুর লুট হয়।
গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, মাস খানেক আগে গোপালপুরের গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুরের জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০/১২জন আহত হয়। এতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খান আহত হন। পরে জগৎকুড়াবাসিরা গোলপেঁচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর প্রতিশোধ হিসাবে গতকাল সন্ধ্যার পর জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকশত মানুষ লাঠিসোটা রামদা নিয়ে গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায় । হামলায় নারী শিশুসহ অনেকেই আহত হয়। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর।
অপরদিকে জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশো মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎকুড়া গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য লুট হয়।
ভূঞাপুর থানার ওসি মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ পুলিশ আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভূঞাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, গতকাল রাতে পুনরায় সংঘর্ষের জন্য মাইকিং করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।





