ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খামেনির এই বক্তব্য পাঠ করে শোনান একজন ইমাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও (সাবেক টুইটার) তার এই বার্তা প্রচার করা হয়। খামেনি অভিযোগ করেন, সামরিক লড়াই এবং ইরানের রাজপথ—উভয় জায়গাতেই পর্যুদস্ত হওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানি জনগণের মধ্যে সন্দেহ, হতাশা, ভয় ও বিভক্তির বীজ বোনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘দুষ্ট শত্রু আজ পরাজিত। সামরিক যুদ্ধক্ষেত্র এবং ইরানের জনচত্বরগুলোতে চূড়ান্ত আঘাত পাওয়ার পর তারা এখন গভীর ও চরম অপমান বোধ করছে।’
সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মুজতবা খামেনি লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়েছেন। তবে সরাসরি দেখা না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার গতিপ্রকৃতি তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এছাড়া চুক্তির প্রথম ধাপেই বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে ‘নগদ অর্থ’ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারীরা কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে দরকষাকষি করলেও ইরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য ছাড়া তারা কোনো আর্থিক সুবিধা দিবে না। বর্তমানে উভয় পক্ষ একে অপরের কাছে পাঠানো প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করলেও তেহরানের কাছে নগদ অর্থ ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিই এখন মুখ্য।
শান্তি আলোচনার এই অচলাবস্থার মধ্যেই বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হচ্ছে। ট্রাম্প এক পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের মধ্যে ক্রমাগত আলোচনা চলছে—চার দিন আগে, তিন দিন আগে এমনকি আজও কথা হয়েছে। আমি ইরানকে বলেছি যে কোনো একভাবে এখন চুক্তিতে আসার সময় হয়েছে।’
তবে এএফপি এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে অনড় থাকায় মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগাযোগ হয়নি। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম আল থানি বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের এই হামলাকে ‘বিস্ময়কর ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইন ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।





