প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা ফল প্রকাশের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে বলেন, ‘ফল প্রকাশে আরও অন্তত ১০ দিন লাগতে পারে। আশা করি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে পারব।’
কেন ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে? (Why Primary Scholarship Result is Delayed?)
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করতে বাড়তি সময় লাগছে। আইনি জটিলতার কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল এই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা (Primary Scholarship Exam) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে আইপিইএমআইএস (IPEMIS) সফটওয়্যারে নির্ভুল ফল আপলোড করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে আইটি টিম।
আরও পড়ুন:
এক নজরে পাশের হার ও বৃত্তির কোটা (Primary Scholarship Quota and Statistics)
এ বছর সারা দেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। তবে মেধা তালিকা ও কোটার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী এই সুযোগ পাবে।
বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন: মোট বৃত্তির ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে।
ছেলে ও মেয়ে অনুপাত: বৃত্তি বিতরণে ছেলে ও মেয়েদের অনুপাত ৫০:৫০ রাখা হবে।
আরও পড়ুন:
ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তির টাকার পরিমাণ (Talentpool and General Grade Scholarship Amount)
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী দুই বছর (ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) এই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনাও সরকারের প্রক্রিয়াধীনে রয়েছে। বর্তমানে দুই গ্রেডে যেভাবে টাকা দেওয়া হবে:
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি (Talentpool):
- শিক্ষার্থী সংখ্যা: ৩৩,০০০ জন
- মাসিক ভাতা: ৩০০ - ৩৫০ টাকা
- এককালীন অনুদান: ২২৫ টাকা
সাধারণ গ্রেড বৃত্তি (General Grade):
- শিক্ষার্থী সংখ্যা: ৪৯,৫০০ জন
- মাসিক ভাতা: ২২৫ - ২৫০ টাকা
- এককালীন অনুদান: ২২৫ টাকা
আরও পড়ুন:
ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল (How to Check Primary Scholarship Result Online)
ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা খুব সহজেই অনলাইন ও মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
১. অনলাইনে রেজাল্ট দেখার নিয়ম (Check Scholarship Result Online)
অনলাইনে রেজাল্ট দেখার সবচেয়ে সহজ ও অফিশিয়াল মাধ্যম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল। প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results অথবা dpe.gov.bd ভিজিট করতে হবে।পরীক্ষার সাল সিলেক্ট করে শিক্ষার্থীর রোল নম্বর সঠিকভাবে ইনপুট দিয়ে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করলেই স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর ফল চলে আসবে।
এখান থেকে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক পিডিএফ মেধা তালিকা (Primary Scholarship Result PDF Download) ডাউনলোড করা যাবে।
২. এসএমএস এর মাধ্যমে রেজাল্ট দেখার নিয়ম (Check Primary Result by SMS)
ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে বা সার্ভার ডাউন থাকলে যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে রেজাল্ট জানা যাবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
DPE <স্পেস> শিক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ নম্বরে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তথ্য ও ফল একনজরে
বিষয় (Topic)
সর্বশেষ আপডেট ও কোটা বিন্যাস (Latest Info & Quota)
সম্ভাব্য তারিখ / তথ্য (Timeline & Stats)
ফলাফল প্রকাশের তারিখ
(Result Date)আইপিইএমআইএস (IPEMIS) সফটওয়্যারে নির্ভুল ফল আপলোডের কাজ চলছে।
১৫ জুনের মধ্যে
মোট পরীক্ষার্থী ও নির্বাচিত
(Total Candidates & Selected)সারা দেশে মোট সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
৮২,৫০০ জন নির্বাচিত হবে
সরকারি স্কুল কোটা (৮০%)
(Govt School Quota)সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত মেধা তালিকা।
৬৬,০০০ জন শিক্ষার্থী
বেসরকারি/কেজি কোটা (২০%)
(Kindergarten Quota)কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা।
১৬,৫০০ জন শিক্ষার্থী
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি
(Talentpool Scholarship)মাসিক ৩০০-৩৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি)।
৩৩,০০০ জন শিক্ষার্থী
সাধারণ গ্রেড বৃত্তি
(General Grade Scholarship)মাসিক ২২৫-২৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি)।
৪৯,৫০০ জন শিক্ষার্থী
ফলাফল দেখার মাধ্যম
(Result Check Portals)অনলাইন: ipemis.dpe.gov.bd অথবা dpe.gov.bd
এসএমএস: DPE <স্পেস> রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।অনলাইন ও এসএমএস




