এবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর এক নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে তার অভিযানগুলো যে সফল হয়েছে, তা প্রমাণের ওপরই তার রাজনৈতিক টিকে থাকা নির্ভর করছে। ইসরাইলে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নিজের গদি বাঁচাতে মরিয়া নেতানিয়াহু।
গত সোমবার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহকে হটাতে বোমা হামলার যে হুমকি নেতানিয়াহু দিয়েছিলেন, তার জেরে ইরান জানিয়ে দেয় যে—লেবানন সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধ রাখবে। চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে দাবি করা ট্রাম্প এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার ফোনালাপ ছিল বেশ উত্তপ্ত। ট্রাম্প ক্ষোভ ঝেড়ে নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘তুমি এসব কী করছো?’ এমনকি ট্রাম্প তাকে মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের সমর্থন না থাকলে তাকে হয়তো জেলেই থাকতে হতো। যদিও ইসরাইলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, এটি ছিল দুই নেতার মধ্যকার স্রেফ একটি ভুল বোঝাবুঝি। ট্রাম্প পরে এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আজ ছোট একটি সমস্যা হয়েছিল, তবে আমি খুব দ্রুতই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছি।’
নেতানিয়াহুর জন্য এই মুহূর্তটি বেশ সংকটজনক। গত সোমবার ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট ভেঙে দেয়ার বিলের প্রথম পাঠ পাস হয়েছে। ইরানের নেতাদের ওপর সফল হামলার পর জনমত কিছুটা নেতানিয়াহুর পক্ষে গেলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা এখন নিম্নমুখী।
সাবেক মার্কিন নীতিনির্ধারক ইলান গোল্ডেনবার্গ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সামনে নির্বাচনের জন্য কোনো সফল গল্প নেই। তাই তাকে হয় লেবাননে জয়ী হতে হবে, নতুবা এটি দেখাতে হবে যে তিনি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এটি তার জন্য ব্যর্থতা স্বীকার করার চেয়ে অনেক ভালো একটি গল্প।’ এছাড়া দুর্নীতির মামলায় আদালতে বিচার শুরু হওয়ায় ক্ষমতায় থাকাটাই এখন তার আইনি রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেরও রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ওপর তাঁর সাফল্য নির্ভর করছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের বাজার অস্থির হয়ে আছে। তাই ট্রাম্প এখন ইসরাইলকে সংযত রাখার চেষ্টা করছেন যাতে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।
ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন যে, হিজবুল্লাহ হামলা না চালালে ইসরাইল বৈরুতে আক্রমণ করবে না। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ‘নমনীয়’ হওয়ার আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, লেবানন ইস্যু ইরানের জন্য শেষ পর্যন্ত ‘রেড লাইন’ হয়ে থাকে কি না, নাকি জব্দ করা তহবিল ফেরত পাওয়ার বিনিময়ে তেহরান নমনীয় হয়। ট্রাম্প এখনও আশাবাদী যে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যা প্রয়োজন, আমরা তা আদায় করে নিবো।’





