কাগজ-কলমের কোটি টাকার বাজেট: রাজপথের জীবিকার লড়াইয়ে কতটা মিলবে স্বস্তি?

সাধারণ জনগণ
সাধারণ জনগণ | ছবি: এখন টিভি
0

কাগজ-কলমের কোটি কোটি টাকার যে বাজেট, তা কি আদৌও ছুঁতে পারে রাজপথে জীবিকার লড়াই করা সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে? আসন্ন বাজেট কি পারবে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের যাপিত জীবনের সংকটগুলোর কোনো সহজ উত্তর দিতে? নাকি বরাবরের মতোই তা আটকে থাকবে সংখ্যার গোলকধাঁধায়?

ঢাকা, এ শহরে বিনামূল্যে শ্বাস নেয়া যায়, তবে বুক ভরে তাজা বাতাস পাওয়া যায় না। এক গ্লাস পানিও মেলে না টাকা ছাড়া। পিচঢালা তপ্ত রাজপথ থেকে বহুতল ভবনের কাঁচঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর—সবখানেই জীবিকার দৌঁড়। জুন মাস আসলেই এই মেগাসিটির বাতাসে ভেসে বেড়ায় একটা ভারী শব্দ-বাজেট।

কিন্তু কাগজ-কলমের সেই কোটি কোটি টাকার অঙ্কের আড়ালে, এ শহরের মানুষগুলো আসলে কেমন বাজেট চায়? আসলেই কী তাদের জীবনে বাজেট অর্থ বহন করে?

শহরের ধুলোবালি আর নিয়ন আলোর নিচে চাপা পড়ে যায় না তো তাদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব।

বাউলের কণ্ঠের চাপা আর্তনাদ কি দেশের সাধারণ মানুষের কথা, নাকি মন গড়া কিছু গীতিকা? কারণ বাজেট নিয়ে তো উত্তরের আমেনা বেগমের কোন বিকার নেই।

একজন ফুল বিক্রেতা বলেন, ‘কেরোসিন তেলের দাম ১৫০ টাকা। গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২০০ টাকা। প্রতিবছরই দাম বাড়ে। এ বছরও বাড়বে।’

একজন বলেন, ‘আমরা বাজেটে চাই চালের দাম কমুক। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মাছ-মাংসের দাম কমলে আমরা চলতে পারি।’

আমেনা বেগমে কি চাওয়ার বয়স শেষ? হয়ত তাই, কিন্তু ঝালমুড়ি বিক্রেতা বেলালের আক্ষেপ আছে ভাগ্য না বদলানোর৷ তার মত অনেকের চাওয়া খাতার হিসেব নয় বরং চাল ডাল আর নুনের সহজলভ্যতা।

আরও পড়ুন:

কথা আছে ঢাকায় চাকা ঘুরলে শহর চলে। কিন্তু যাদের হাত ধরে শহর হাঁটে। প্যাডেলের ঘূর্ণনে যাদের জীবিকা তারা কি চায়?

কংক্রিট ভেদ করে ওঠা সূর্য যখন হাতে ধরিয়ে দেয় থলি। তখন কারও কারও ব্যাগ ভর্তি আবার কারও সময় চলে যায় পকেটের খুচরো গুনতে। আগামী বাজেটে সেই খুচরোর অংকটা কেমন হবে?

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, তারা চায় বাজেটে পণ্যর দাম কমুক।

হাসপাতালের করিডোরে বাবার বুকে আগলে রাখা পরাণপাখির যন্ত্রণার হয়ত কমবে স্বাস্থ্য খাতের একটু বাড়তি বাজেটে। তাইতো তাদের এখনো আকাশ ভরা স্বপ্ন, এদেশে ফ্রিতেই মিলবে বরি , কিংবা উপশমের, ইনজেকশন।

স্বপ্ন আর আকাশের সমান আশা নিয়ে এই শহরে পথ চলে কোটি প্রাণ। তবে তাদের চাওয়াটা খুব বেশি কি? বই কিনতে খরচ কম আর চা-রুটির দাম নাগালে থাকলেও খুশি করা যায় তাদের। আর কর্মসংস্থানের চাওয়া তারা তোলা রাখে জুলাইয়ের মত কোন এক আন্দোলনের জন্য।

শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘আমরা বেশি কিছু চাই না। এক কাপ চা-রুটি কেনার টাকা আর বই কেনার টাকা যেন আমাদের হাতের নাগালেই থাকে।’

পেশাজীবীরাও চায় আয়কর সীমাবৃদ্ধির সংবাদ যেন থাকে আগামীর বাজেটে।

দিনশেষে এই শহরের কোটি মানুষ আসলে এমন এক বাজেট চায়, যা তাদের ধনী বানাবে না ঠিকই, কিন্তু মধ্যবিত্তকে দরিদ্র আর দরিদ্রকে নিঃস্ব হতে দেবে না।

প্রশ্ন একটাই আসন্ন বাজেট কি পারবে এই তৃষ্ণার্ত শহরের এক গ্লাস পানির দাম একটু কমাতে? নাকি বরাবরের মতোই কাগজের অঙ্কে ঢাকা পড়ে যাবে শহরের এ অলিখিত দীর্ঘশ্বাস।

এফএস