আকাশ ছোঁয়া মেঘ-পাহাড়, স্বচ্ছ নীলাভ জল আর শ্বেত-শুভ্র পাথরের অপূর্ব মিতালী—সব মিলিয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস।
ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সব ক্লান্তি ভুলে যেতে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। বর্ষার যৌবনা সাদাপাথরের ছোঁয়া পেতে কেউ নেমে পড়ছেন জলকেলিতে, কেউবা মুঠোফোনের ফ্রেমে বন্দি করছেন স্মৃতিময় মুহূর্ত। সবার কণ্ঠেই সাদাপাথরের মুগ্ধতার গল্প।
শুধু সাদাপাথরই নয়, ঈদের ছুটিতে সিলেটের সবুজে মোড়ানো চা বাগানগুলোও হয়ে উঠেছে প্রকৃতি-প্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য। শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন সবুজে ঘেরা চা বাগানের নির্মল পরিবেশে।
সাদাপাথর, জাফলং কিংবা চা বাগান সিলেটের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র ঘিরেই গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবিকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমনে তাই প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখেও।তবে তারা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ওয়াশরুম আরও কিছু সুযোগ সুবিধা বাড়ালে পর্যটন কেন্দ্রটি হয়ে বিশ্ব মানের পর্যটন কেন্দ্রে।
পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার পরিবেশ সবকিছুই ভালো ছিলো। কিন্তু আরেকটু যদি নিরাপত্তা ভালো হতো, তাহলে পর্যটক আরও আসতো। ওয়াশরুমের, চেঞ্জ রুমের সমস্যা হয়। এগুলো যদি আরও ডেভেলপ করা যায়, তাহলে আরও সুবিধা হবে।
ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। অন্যদিকে, সিলেট জেলার বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্র নিজ নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় পর্যটন উন্নয়ন ও তদারকিতে নিজ থেকেই কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের পরপর এই পর্যটনের জন্য অনেক লোকজন আসবে বাইরে থেকে। তাদের নিরাপত্তা এবং হচ্ছে যে যারা বাসা-বাড়িতে গেছে তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে এবং এইটা প্রস্তুতি থাকবে।’
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাকৃতিক কন্যা জয়ন্তিকা, জাফলং, বিছানকান্দি, কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর, লালাখাল এগুলা মানে তারা ভিজিটরসরা আসে। নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, এবং যাতে কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হয়।’
ঈদের দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই জমে উঠেছে সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জনপদকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে প্রয়োজন আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।





