এআই ফিচারের ছোঁয়া উইন্ডোজে, বড় পরিবর্তনের মুখে বৈশ্বিক হার্ডওয়্যার বাজার

ল্যাপটপ দেখছেন ক্রেতা
ল্যাপটপ দেখছেন ক্রেতা | ছবি : এখন টিভি
0

উইন্ডোজ টুয়েলভ আসবে নাকি উইন্ডোজ ইলেভেনই ধাপে ধাপে এআই নির্ভর প্ল্যাটফর্মে রূপ নেবে- তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে চলছে নানা আলোচনা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোসফট এখন আর কেবল অপারেটিং সিস্টেম নয়, বরং এআই নির্ভর কম্পিউটিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টেক জায়ান্টটি। আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে হার্ডওয়্যার বাজারে। ফলে, একদিকে বাড়ছে এআই রেডি ডিভাইসের বাজার, অন্যদিকে পুরনো কম্পিউটার ধীরে ধীরে নতুন এআই ফিচারের বাইরে চলে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি দুনিয়ায় অনেকেরই প্রশ্ন উইন্ডোজ পরবর্তী সংস্করণ উইন্ডোজ ১২ কি সত্যিই আসছে, নাকি পরিবর্তনটা হচ্ছে বর্তমান উইন্ডোজের ভেতরেই?

২০২৬ এ মাইক্রোসফট আর শুধু একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করছে না। তারা ঝুঁকছে এআই ড্রিভেন কম্পিউটিং ইকোসিস্টেমে। যার কেন্দ্রে রয়েছে হার্ডওয়্যার, বাজার এবং ব্যবহারকারীর চাহিদার বড় পরিবর্তন ।

বর্তমানে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলাদা কোনো নতুন উইন্ডোজ সংস্করণ আসার চেয়ে বেশি বাস্তব উইন্ডোজের ধারাবাহিক এআই আপগ্রেড এবং কো-পাইলট পিসি ইকোসিস্টেমের বিস্তার।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের একজন বলেন, ‘পুরাতন যে পিসিগুলো আছে বা ল্যাপটপগুলো আছে, এগুলো দেখা যায় যে ডিফল্ট কোনো এআই না থাকলেও সেখানে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এআইগুলো ইউজ করা যায়। আর উইন্ডোজ ইলেভেনে কিন্তু এখন হচ্ছে সম্পূর্ণ এআই কম্পিটিবল নিয়ে আসছে। সো যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে পুরাতন পিসি হোক বা নতুন পিসি হোক, নতুন পিসি হলে তো অলরেডি এনপিইউ দেয়াই আছে। পুরাতন পিসিগুলোতেও কিন্তু এখন এনপিইউ ছাড়াও দেখা যাচ্ছে এআইয়ের কাজগুলো কিন্তু খুব স্মুথলি করা যায়।’

ফলে চলতি বছর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে হার্ডওয়্যার বাজারে। কারণ নতুন প্রজন্মের উইন্ডোজ ফিচার এখন আর শুধু সিপিইউ বা জিপিইউ নির্ভর নয়। এগুলো পুরোপুরি নির্ভর করছে নিউরাল প্রোসেসিং ইউনিট বা এনপিইউয়ের ওপর। ইন্টেল কোর আল্ট্রা, এএমডি রাইজেন এআই এবং স্ন্যাপড্রাগন এক্স সিরিজগুলো এখন ন্যূনতম ৪০ টপস এনপিইউ ক্ষমতার এআই পিসি স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হচ্ছে। এতে পুরানো সিপিইউভিত্তিক ডিভাইসগুলো ধীরে ধীরে নতুন এআই ফিচারের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এই পরিবর্তনের কারণে পিসি বাজারে তৈরি হয়েছে দুই স্তরের বাস্তবতা। একদিকে এআই রেডি পিসি , যেখানে শক্তিশালী এনপিইউ, র‌্যাম এবং উন্নত প্রসেসিং ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে পুরানো জেনারেশনের কম দামের ডিভাইস, যেগুলো মূলত সাধারণ কাজেই সীমাবদ্ধ।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তি বলেন, ‘এআই বেজ আপনি কাজ করতে যান, তার কিন্তু একটা সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট আছে। আপনার প্রিভিয়াসলি পিসিটা যদি এআই রিকোয়ারমেন্টের ভিতরে পড়ে, যেহেতু প্রিভিয়াস পিসি, সেক্ষেত্রে সেটা কিন্তু আসলে হয়তো ওইভাবে পড়বে না। আপনি আসলে কোন পিসি পারচেজ করছেন সেটা কিন্তু বলা যাচ্ছে না। তো সেই ওয়াইজ যদি চিন্তা করেন আপনাকে আপগ্রেডেশন অবশ্যই করতে হবে। হার্ডওয়্যারটা আগে সেল করতাম একরকম প্রাইসে, এআই আপডেট হওয়ার ক্ষেত্রে পারচেজ ওই প্রোডাক্টের প্রাইসটা আসলে ওরকম থাকছে না। যেহেতু অনেক আপডেট জেনারেট হয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রোডাক্টের প্রাইস বেড়ে গিয়েছে।’

নতুন এআই পিসি আসায় বর্তমানে অনেক ডিভাইসে ১৬ জিবি থেকে ৩২ জিবি র‌্যাম স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে, এবং হাইঅ্যান্ড মডেলে ৬৪ জিবি পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। এনপিইউ এবং এআই প্রসেসিং ইউনিট যুক্ত হওয়ায় ডিভাইসের মোট খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন সামনে আসছে ব্যবহারকারীরা কি এই নতুন প্রজন্মের ডিভাইস গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘দিনকে দিন হচ্ছে যে ওএস অনেক হেভি হইতেছে, উইন্ডোজ স্পেশালি উইন্ডোজ ইলেভেন অ্যান্ড এটার সাথে অনেক কিছু ইন্টিগ্রেটেড হইতেছে অ্যান্ড প্রত্যেকটা সফটওয়্যার হচ্ছে হেভি হচ্ছে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘আগের মেন্টালিটিতে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিল ওইটা ৬০-৭০ হাজার টাকা চলে যাচ্ছে। সো দেখা যাচ্ছে যে এইসব আপডেট আসার কারণে আমরা যেসব নরমাল ইউজার আছি, সাধারণ ইউজার, বাজেট ইউজার, তাদের জন্য অনেকটাই মানে ডিফিকাল্টি ফেস করতে হচ্ছে এটার জন্য আরকি।’

নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে রিয়েল টাইম সার্চ, ডকুমেন্ট সামারাইজেশন, ভয়েস কমান্ড কন্ট্রোল এবং অটোমেটেড সিস্টেম অপটিমাইজেশন। এসব ফিচার লোকাল এনপিইউ তে চলার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ছাড়াও কাজ করছে।

এফএস