যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই এই সপ্তাহে ম্যানিলায় ১১ সদস্যের আসিয়ান ও প্রধান অংশীদার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিলিত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, এই ঘটনাপ্রবাহ প্রধান মধ্যস্থতাকারীদের চলমান প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা কমিয়ে দিচ্ছে।’
৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্মিলিত জিডিপির অধিকারী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তেলের একটি বড় আমদানিকারক অঞ্চল। জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় আসিয়ানের তেল-ভাগাভাগি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকরের চেষ্টা চলছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ সংকটও কম নয়। মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে সেখানকার সংঘাত নিয়েও পরামর্শ বৈঠক হবে। এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
বেইজিংকে নিশানা করলেন রুবিও
বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিরোধ ঠেকাতে গত প্রায় ১০ বছরেও আচরণবিধি চূড়ান্ত করতে পারেনি আসিয়ান ও চীন। বুধবার আসিয়ানের বৈঠকের ফাঁকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রসচিব মারিয়া থেরেসা লাজারো ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। এর ঠিক আগে গত সোমবার সেকেন্ড টমাস শোয়ালের কাছে ফিলিপাইনের এক নৌসদস্যের মাথায় চীনা কোস্টগার্ডের আঘাতের ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সামুদ্রিক বিরোধ আলোচনার ফোরাম আসিয়ান নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ‘ফিলিপাইনের উচিত আসিয়ানের ঘূর্ণায়মান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকে আঞ্চলিক শান্তির ঊর্ধ্বে না রাখা।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চীনের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও আগ্রাসী’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ম্যানিলায় পৌঁছে ফিলিপাইনের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে চীনের নাম উল্লেখ না করেই বেইজিংকে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সতর্ক করেন, এই স্বাধীনতা ‘কোনোভাবেই নিশ্চিত নয়’।
রুবিও লিখেছেন, ‘এই জলসীমা যদি এমন কোনো শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যারা বাণিজ্যকে ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ান রাষ্ট্রগুলো তাদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য নতুন ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।’
তিনি ২০১৬ সালের সালিসি রায়ের কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ব্যাপক সার্বভৌমত্বের দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। রুবিও বলেন, ওই রায় চূড়ান্ত ও অবশ্যপালনীয়। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইন ও অন্যান্য মিত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার রক্ষা করবে। তবে ফিলিপাইনের পক্ষে যাওয়া ওই সালিসি রায়কে চীন স্বীকৃতি দেয় না। আগামী দিনে আসিয়ানের এই বৈঠকে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও যোগ দেবেন।





