২০ বছর বয়সেই শেষ ক্যারিয়ার—বর্ণবাদের বিষাক্ত ছোবলের কথা জানালেন রোলি গ্রেগয়ার

রোলি গ্রেগয়ার
রোলি গ্রেগয়ার | ছবি: সংগৃহীত
0

বর্ণবাদের বিষাক্ত ছোবলে কত স্বপ্ন যে সূচনাতেই বিনষ্ট হয়ে যায়, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ ইংল্যান্ডের ফুটবলার রোলি গ্রেগয়ার। ৪৬ বছর পর সান্ডারল্যান্ড ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এ ফুটবলার ভেঙেছেন তার নীরবতা। জানিয়েছেন, কীভাবে বর্ণবাদের শিকার হয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে থমকে গিয়েছিল তার ক্যারিয়ার।

সালটা ১৯৭৮। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সান্ডারল্যান্ড ক্লাবের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল রোলি গ্রেগয়ারের। প্রথম ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করে দলকে জিতিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের রাতটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা কে জানত!

ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল উগ্র শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী স্যান্ডবার্নে তার কিশোর ভাইদের ওপর ইট-পাটকেল নিয়ে চড়াও হয়, উড়ে আসে বর্ণবাদী মন্তব্য-গালামন্দ। শুধু মাঠের বাইরেই নয়, ক্লাবের ড্রেসিংরুমে নিজের সতীর্থদের কাছ থেকেও পেয়েছেন অবহেলা আর লাঞ্ছনা। আফ্রিকান-ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় সতীর্থরা তার গায়ে হাত মুছে উপহাস করত।

তিনি বলেন কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় আমাকে কৌতুক বানিয়ে রেখেছিল ড্রেসিং রুমে। সেইসব দিনের যন্ত্রণার কথা মনে হলে আজও তা স্পষ্ট অনুভব করতে পারেন তিনি। মাঝে মাঝে মনে হয় ফুটবলটা না খেললেই ভালো হতো।

আরও পড়ুন:

মাঠের ভেতরের অপমান আর দর্শকদের দুয়োধ্বনির মধ্যেই মাত্র ২০ বছর বয়সে এক ভয়াবহ হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন রোলি। ২১তম জন্মদিন কাটে হাসপাতালের বিছানায়, শেষ হয়ে যায় ফুটবল ক্যারিয়ার। ক্লাব কর্তৃপক্ষও নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিদায় করে তাকে। অভিমানে, কষ্টে ফুটবল দেখাটাই বন্ধ করে দেন তিনি। দেশ ছেড়ে, নাম বদলে দীর্ঘ চার দশক কাটিয়েছেন তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে।

অবশেষে ৪৬ বছর পর, সান্ডারল্যান্ড ক্লাবের আমন্ত্রণে আবারও সেই চেনা মাঠে ফিরেছেন ৬৭ বছর বয়সী রোলি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মান জানিয়েছে, সমর্থকরা তাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছে। এত বছর পর সান্ডারল্যান্ডের অফিশিয়াল ইতিহাসে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে এই কৃষ্ণাঙ্গ পাইওনিয়ার বা পথপ্রদর্শককে। এত বছর পর সান্ডারল্যান্ডে ফিরে আসাতে পারায় বেশ উচ্ছ্বসিত গ্রেগয়ার। ক্লাবে ফিরে আসতে পেরে ভেতরের সব কষ্ট ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

রোলি গ্রেগয়ারের এই ফিরে আসা প্রমাণ করে, সত্য আর সম্মান ফিরে পেতে ৪৬ বছর দেরি হলেও, তা কখনো বৃথা যায় না।


এফএস