দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর শুধু বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ব্যবস্থাকেই অস্থির করেননি ট্রাম্প, ব্যাপক দলীয়করণে বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলোর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। নিজের মেয়াদের দুই বছর না পেরোতেই ক্ষমতার বলয় ধরে রাখতে রাষ্ট্রদূত পদে ৯০ শতাংশেরও বেশি দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প ।
এ লক্ষ্যে ২০২৫ সালে শপথের পর স্টেট ডিপার্টমেন্টকে টার্গেট করেন ট্রাম্প। গেলবছরের এপ্রিলে দপ্তরটি চরমপন্থি রাজনৈতিক মতাদর্শে আচ্ছন্ন বলে কটাক্ষ করে- এটি পুনর্গঠনে পরিকল্পনা হাতে নেন মার্কো রুবিও। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ছাড়েন প্রায় ৩ হাজার কর্মী। যাদের প্রায় অর্ধেকই বরখাস্ত করা হয়। এরপর ডিসেম্বরে বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৩০ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন রুবিও।
সংস্কারের মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে শক্তিশালী করার বার্তা দিলেও, আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বিশ্বে ১৯৫টি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদের মধ্যে ১০৯টিই শূন্য রয়েছে। এমনকি ইরানের সীমান্তবর্তী সাতটি দেশের মধ্যে পাঁচটি দেশে কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূত নেই। আর সবচেয়ে বেশি ৩৭টি রাষ্ট্রদূতের পদ খালি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও, রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রেও আগের সরকারগুলোর চেয়ে বেশি দলীয়করণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, নিজের দুই মেয়াদে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প যে পরিমাণ দলীয়করণ করেছে তা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছরের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। আর ট্রাম্পের রক্ষণশীল নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০২৪ সালে বেন ফ্রাঙ্কলিন ফেলোশিপ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফেলোশিপের লক্ষ্য হলো, ট্রাম্পের মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন নীতিতে বিশ্বাসী কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে তদবির করা।
এছাড়াও, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান শান্তিচুক্তি ও গাজা সংঘাতের মতো ইস্যুগুলোর সমাধানের ভার তুলে দিয়েছেন স্টিভ উইটকভ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের কাঁধে। কিন্তু যে তেহরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ঘিরে ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সেটি নিরসনে গেল ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা বৈঠকের সময় কোনো পরমাণু বিশেষজ্ঞকে দলে নেয়নি উইটকভ- কুশনার।
তবে এর আগে নেট সোয়ানসন নামে একজন পরমাণু বিজ্ঞানী উইটকভের দলে যোগ দিলেও, পরে ডানপন্থী এক নেতার কটূক্তির জেরে তাকে সরিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে উইটকভ বা কুশনার কারোরই পরমাণু বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে তাদের দলে পরমাণু বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া আবশ্যক।





