আজ (বৃহস্পতিবার, ২১ মে) দুপুর ২টায় মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এসময় তিনি নগরবাসীর হাতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার তুলে দেন।
এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় রাজশাহী মহানগরীর ৮২ হাজার হোল্ডিং এর প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির মাংস স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণে তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ, গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় দু’টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনকালে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহোদয়ের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে কোরবানির গোস্ত স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য দু’টি বড় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রদান করা হবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব এসব ব্যাগ পচনশীল, যা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। সিটি করপোরেশন নাগরিকদের ঈদ উপহার হিসেবে এসব সরবরাহ করছে। প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে রাজশাহীকে পলিথিনমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কাজে সম্পৃক্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী, পরিবহন কর্মী, পরিবেশকর্মীসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামদের মাধ্যমে মসজিদে প্রচার, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর সহযোগিতায় ঈদের পরদিনই নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে চাই।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে রাজশাহী মহানগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। জনগণের চলাচলের পথ, সড়ক কিংবা রেললাইনের আশেপাশে পশু কোরবানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে রাসিক প্রদত্ত ব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখতে হবে, যা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সংগ্রহ করবে। অথবা গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। পত্তর রক্ত ও বর্জ্য অপসারণের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’
এসময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




