বর্ষা শুরু হয়নি পুরোপুরি। এরইমধ্যে বাড়ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানিতে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জনে। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। তথ্য বলছে, আক্রান্তদের প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী। গত তিন বছর ধরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে ২০২৩ সালে রেকর্ড তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন আর প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।
আক্রান্তরা বলছেন, সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা তৈরি না হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়।
আক্রান্তরা জানান, প্রথমে জ্বর আসছে, আবার আমরা ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। ভাবছি ভালো হয়ে যাবে। মাঝখানে দুই দিন গ্যাপ গেলো, জ্বর গেলো না, আবার পরীক্ষাতে ধরা পড়লো ডেঙ্গু। সাধারণ জনগণ হিসেবে, সচেতন জনগণ হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আমাদের চারপাশ, আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
এ অবস্থায় এবার আগেভাগেই মাঠে নেমেছে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। দক্ষিণে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি মশার লার্ভা চিহ্নিত করতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই করা হয়েছে জরিপ টিম। পাশাপাশি কেনা হচ্ছে নতুন ফগিং মেশিন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘লার্ভাগুলো কোথায় বেশি উৎপাদিত হয় সেগুলোকে আইডেন্টিফাইড করা। কোনটা একেবারে মানে ডেঞ্জারাস, কোনটা কম ডেঞ্জার, কোনটা ডেঞ্জার না। এইভাবে মূল্যায়ন করে তারপরে আমরা ঐ সমস্ত ওয়ার্ডগুলোর উপরে আমরা বেশি জোর দেবো। আমাদের যত সংস্থাগুলো আছে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তাদেরকেও আমরা উৎসাহিত করছি যে তারা যাতে যার যার বিল্ডিংগুলো পরিষ্কার রাখে, আঙিনাটা পরিষ্কার রাখে, কোথাও যাতে পানি না জমে।’
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক জানালেন কোরবানি ঈদের পর সপ্তাহে দুইদিনের পরিবর্তে ৩ দিন করে ফগিং কার্যক্রম চালানো হবে। তবে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা দুই দিন মশার ওষুধ দিয়ে থাকি স্বাভাবিকভাবে। সকাল বেলা স্প্রে করি, বিকালে ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া দিয়ে যে মশা নিধন করা সেটা করি। আমরা আগামী কুরবানির পর থেকে সেটাকে এক দিন বাড়িয়ে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা করেছি। শুধু মশার ওষুধ দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা কষ্ট। নর্দমা, ড্রেনগুলো যেখানে অপরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সেটার দিকে আমরা অনেক জোর দিয়েছি।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এবছর হামের সাথে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই মৌসুমভেদে না করে সিটি করপোরেশনগুলোকে বছরব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান তাদের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘সারা দেশে একযোগে দুই থেকে তিন দিনের একটি কর্মসূচি নিতে হবে যেখানে ডেঙ্গুর বাহক যে এডিস মশার দুটো ধরন, দুটোকেই দুটোর বাসস্থান এবং ডিম পাড়ার জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কম বয়সীদের জন্য একটি ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিয়েছে, সেটি যতটা সম্ভব টার্গেট গ্রুপকে দেয়া।’
ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার বড় একটি চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলছে, ডেঙ্গু ইস্যুতে অবহেলার সুযোগ নেই। বর্ষা সামনে রেখে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং গত বছরের মতো পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে। তাই সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।





