কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের একমাত্র উপকরণ লবণ। চট্টগ্রামে এবার প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ চামড়া সংরক্ষণে লবণ লাগবে অন্তত ৯০০ টন। কিন্তু লবণের দাম বাড়ায় চিন্তার ভাঁজ আড়ৎদারদের কপালে।
নগরীর মাঝিরঘাটে সাড়ি সাড়ি ট্রলারে আসছে লবণ। প্রক্রিয়াজাতে ব্যস্ত মিলগুলো। প্রতিদিনই নগরীর মাঝিরঘাটে উৎপাদন হচ্ছেন হাজার হাজার টন লবণ। তারপরও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে বেড়েছে দাম। প্রতি বস্তা লবণ মাস খানেক আগেও যেখানে ছিল ৮০০ টাকা এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮ শ’ টাকা।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সরদার বলেন, ‘কিছু বিনামূল্যে লবণ প্রদান করে। যেহেতু আমরা অরিজিনাল চামড়া ব্যবসায়ী এবং আমরা মাঠ পর্যায় থেকে চামড়াগুলো সংগ্রহ করে আপনার ট্যানারি শিল্পের কাছে আমরা বিক্রি করি। তো আমাদের আসলে সরকারিভাবে কোনো সহায়তা, ঋণ সহায়তা, লবণের সহায়তা কোনো সহায়তা আমরা পাই না।’
চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার গেল বছর থেকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ শুরু করেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ-বোর্ডগুলোতে। গেলবারের মতো এবারও এ খাতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে বিনামূল্যের এ লবণ চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহার না করে অনেকে তা বাইরে বিক্রি করায় এবার কঠোর অবস্থানে বিসিক।
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর আলকাদেরী বলেন, ‘১০০০ মেট্রিক টনের মতো লবণ প্রয়োজন হতে পারে। এই চাহিদা অনুসারে হয়তো পুরোপুরি চট্টগ্রাম জেলায় বরাদ্দ না ও আসতে পারে। এটা সরকার যে পরিমাণ অর্থায়ন করবে সেটা সারা দেশেই সেগ্রেগেশন হবে।’
চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৬৯ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৭ লাখ টন। তবে গেল মাসে ভারি বৃষ্টিতে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। এ কারণেই লবণের দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
মেসার্স এলিট সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজুল কাদের বলেন, ‘এই বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে এই যে ইন্টারাপশনটা, সেজন্য লবণের ঘাটতি একটা আছে। যার জন্য বছরের প্রথম দিকে যে লবণের মূল্যটা ছিল, আমি যদি একদম বলি যে লাস্ট মাসে যদি বলি, এপ্রিলের থেকে এই মাসে লবণের দাম মনে হয় খুব সম্ভবত ১০০ টাকার মতো ক্রুড মালটা, এটা মালটা বেড়ে গিয়েছে।’
লবণের দাম মিল পর্যায়ে বাড়ালেও মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলেও রয়েছে অভিযোগ।
চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করছে। এর উদ্দেশ্য মাঠ পর্যায়ে জাতীয় সম্পদ চামড়া যেন নষ্ট না হয়। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে অনেক ক্ষেত্রেই এই লবণ চলে যাচ্ছে খোলা বাজারে যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমের উপর। তাই কেবল বিনামূল্যে লবণ বিতরণই নয় বরং সমগ্র চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের কার্যক্রমটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় করা হলে জাতীয় এ সম্পদ রক্ষা হবে।




