আরডিএক্স, এভারেস্ট, টাইসন, থানস কিংবা স্টার বয়-নাম শুনলে মনে হবে সিনেমার কোনো চরিত্র। অথচ এগুলো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর নাম। শখ আর ভালোবাসা থেকেই আদরের পশুগুলোর এমন ব্যতিক্রমী নাম রেখেছেন খামারিরা।
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে জেলার খামারগুলো। কেউ আগাম বায়না করছেন, কেউ আবার সরাসরি খামারে এসে পছন্দের পশু কিনছেন। অনেক ক্রেতা খামারের ফেসবুক পেইজ ঘুরে আগে থেকেই দেখে রাখছেন নিজেদের পছন্দের পশুটি। পরে সরাসরি খামারে এসে চূড়ান্ত করছেন কেনাকাটা।
খামারিরা বলছেন, সারা বছর ধরেই চলে পশু লালন-পালন আর পরিচর্যা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরে বাড়তি যত্ন নেয়া হয় পশুগুলোর।
ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘গরুর কালার সুন্দর সাইজ পারফেক্ট সুন্দর আছে। ইন্ডিয়ান বলদ তো এখন দেখাই যায় না হাটে, খামারে আসলে অনেক আইকনিক গরু দেখা যায়—যেমন একটা গরু আছে কালো অনেক বড়।’
আরও পড়ুন:
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এবছর চাহিদা- ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি পশু। প্রস্তুত ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪টি। উদ্বৃত্ত ১০ হাজার ৭০৭টি। জেলার ৫ উপজেলায় খামারের সংখ্যা- ৬ হাজার ৫৩৭টি।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ দপ্তর, উপজেলা প্রশাসন—সবাই মিলে একটা টিমওয়ার্ক হিসেবে কিন্তু আমরা এই কোরবানির সময় কাজ করি। এবং পবিত্র ঈদুল আযহা যাতে নিরাপদভাবে আমাদের গরুগুলো তৈরি হয় এবং কোরবানিযোগ্য হয় সেটা কিন্তু আমরা নিশ্চিত করে থাকি।’
খামার থেকে পশু কেনার বাড়তি কিছু সুবিধা থাকায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের।
ক্রেতারা জানান, আগে তারা হাট থেকেই পশু কিনতেন। তবে এখন খামার থেকে কিনছেন, কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে এতে।
চাহিদার তুলনায় এবার নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন খামারিরা। আর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও তদারকির কারণে ক্রেতারাও আশা করছেন, এবারের কোরবানির বাজার হবে নিরাপদ ও লাভজনক।




