২৩ অক্টোবর ২০২৩, কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনের সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ। এ ঘটনায় নিহত হয় নারী শিশুসহ ১৮ জন। তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ উঠে আসে সিগনাল অমান্য, ক্রসিং পয়েন্টে ভুল এবং চালকদের গাফিলতি।
আর চলতি বছরের ২২ মার্চ কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে নিহত হয় ১৩ জন।এই দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্টেও উঠে আসে সিগন্যাল ভুলের তথ্য, ছিলো গেটম্যানের গাফিলতিও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দুর্ঘটনার সিংহভাগের কারণ দেশে বিদ্যমান রেল সিগন্যাল ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত রেল ক্রসিং।
তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৫ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা দিয়ে চলছে রেল চলাচল। এর মধ্যে কম্পিউটারাইজড রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেম আধুনিক হলেও বাকি সবই মানদাতার আমলের। এখনো কোন কোন রেলস্টেশনে হাত দিয়ে তৈরি করা হয় সিগন্যাল। হ্যারিকেন সিগন্যাল ব্যবস্থাও বিদ্যমান।
রেলওয়ে তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে রেল ক্রসিং আছে প্রায় ৪ হাজার ১৬০ টি। এর মধ্যে ২ হাজার ক্রসিং নিরাপত্তা থাকলেও অরক্ষিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০। আর অবৈধ ক্রসিং আছে ৮৫৪ টি। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। আর এসব রেল ক্রসিং রক্ষায় অসহায় কতৃপক্ষ।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বর্তমানে রেলের গড় গতি মাত্র ৭০ কিলোমিটার। রেল সিগন্যাল ও ক্রসিং আধুনিকায়ন করা গেলে এই গতি ছাড়াবে শতকের ঘর। এছাড়া কমবে রেল দুর্ঘটনাও।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পাশাপাশি ক্রসিং নিয়ে নতুন পরিকল্পনা চলছে। বাস্তবায়ন হলে ট্রেন আসার আগাম বার্তা পাওয়া যাবে দেশের সব রেল ক্রসিংয়ে।
বছরের পর বছর রেলের আইন কিংবা উদ্যোগ কেতাবে থাকলেও বাস্তবে খুব দেখা মেলে না। ফলে এবারের উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।





