১৯৯৯ সালের শেষ দিন থেকে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা পুতিন এখন দেশের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের মুখে রয়েছেন। এই যুদ্ধে দুই পক্ষের কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ইউক্রেনের বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতিতেও বড় ধরনের টান পড়েছে।
গতকাল (শনিবার, ৯ মে) পুতিন কিয়েভকে দেয়া পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়েই চলেছে। তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছে রাশিয়া কখন বিধ্বস্ত হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়বে। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। তারা এখন নিজেরাই এমন এক গর্তে আটকে পড়েছে যেখান থেকে বের হতে পারছে না।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পুতিন তার পুরোনো অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির সব শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল কোনো তৃতীয় দেশে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা হতে পারে। অন্যদিকে, আলোচনার জন্য পুতিন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর শ্রোডারের নাম প্রস্তাব করলেও ইউক্রেন ও ইউরোপের দেশগুলো এতে সন্দিহান। পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও রুশ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কিয়েভ আগেই শ্রোডারকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন গত শুক্রবার তিন দিনের যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, শনিবার তার প্রথম দিনেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এছাড়া দুই পক্ষের ১ হাজার করে বন্দিবিনিময়ের কথা থাকলেও পুতিন জানান, ইউক্রেনের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তারা পাননি।
এবারের বিজয় দিবসের প্যারেড ছিল গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়্যার প্রদর্শনী ছাড়াই কুঁচকাওয়াজ শেষ হয়। বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিও ছিল নগণ্য। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং থাকলেও এবার শুধু বেলারুশ, মালয়েশিয়া, লাওস, উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের নেতারা অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি বিজয় দিবসের বদলে শনিবার ‘ইউরোপ দিবস’ পালন করেছেন এবং ইউক্রেনকে ইউরোপীয় পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।





