‘শিশুদের টিকার আওতায় আনতে পুশ নোটিফিকেশন ও মোবাইল বার্তা পাঠানো হবে’

ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান | ছবি: এখন টিভি
0

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে। মোবাইল এসএমএস ও পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে টিকার তথ্য পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমন্বিত এ উদ্যোগের ফলে কোনো শিশুই টিকার বাইরে থাকবে না।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৭ মে) দুপুরে ডিএনসিসির মিলনায়তনে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অংশীজনদের সমন্বিত কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় এবং ২০২৬ সালের হামের প্রকোপ মোকাবেলা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রশাসক এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সিটি করপোরেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সভায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি মালাইলা ইউসুফজাই বলেন, ‘শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

সরকারের টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এরইমধ্যে পোলিও ও ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল, হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ এবং সম্প্রতি ৯৩ শতাংশ এইচপিভি ও ৯৭ শতাংশ টিসিভি টিকার কভারেজ অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় ৯টি অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ১২টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ইপিআই কাভারেজ ইভালুয়েশন সার্ভে ২০২৩ অনুযায়ী, দেশের নগর এলাকায় টিকাদান কভারেজ ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কভারেজ ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

সভায় ২০২৬ সালের চলমান হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ মে পর্যন্ত দেশে ৪৪ হাজার ২৬০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী, ৬ হাজার ৯৯ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী এবং ২৬৮ জন সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন:

সভায় আরও জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল থেকে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে জরুরি এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাতেও এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।

সভায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশ সরকার টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে টিকাদান কার্যক্রমে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমে শিশু ও নারীদের মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব প্রতিরোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, ইউনিসেফের ইমিউনাইজেশন ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. নিজাম উদ্দীন আহমেদ।

সভা সঞ্চালনা করেন ডা. মাহমুদা আলী এবং সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

এসএস