১৯৮০ সালে সিএনএন প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক সংবাদ সংস্কৃতির পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন টার্নার। প্রথম দিকে অনেকেই ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল নিয়ে উপহাস করলেও ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের ওপর হত্যাচেষ্টা এবং ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সরাসরি সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে সিএনএন বিশ্বে অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেড টার্নারকে ‘সম্প্রচার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব’ এবং নিজের বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেছেন। সিএনএনের বর্তমান চেয়ারম্যান মার্ক থম্পসন বলেন, ‘টেড ছিলেন একজন নির্ভীক ও দূরদর্শী নেতা। তিনি সব সময় নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখতেন। সিএনএনের আত্মা হিসেবে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’
সিএনএনের প্রখ্যাত সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরও টার্নারকে স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি মানবজাতির কল্যাণে এক অপ্রতিরোধ্য গণমাধ্যম বিপ্লব তৈরি করেছিলেন।’
মিডিয়া সাম্রাজ্যের বাইরেও টেড টার্নার বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন নৌকাবাইচ চ্যাম্পিয়ন, ক্রীড়া দলের মালিক এবং সমাজসেবক। জাতিসংঘে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়াসহ পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি লিউই বডি ডিমেনশিয়া নামক এক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন।
সিএনএন ছাড়াও টিবিএস, টিএনটি, কার্টুন নেটওয়ার্ক এবং টার্নার ক্লাসিক মুভিজের মতো জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে বিশ্বের গণমাধ্যম জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।





