রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ | ছবি: এখন টিভি
0

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ (বুধবার, ৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আইএনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এরপরও বাংলাদেশ মানবিক কারণে এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।’ এসময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্ববাসীর জন্যও একটি বড় মানবিক সংকট।’

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তবে সরকার রোহিঙ্গাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বদ্ধপরিকর। আমরা চাই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বসবাস করুক এবং তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাক।’

মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছ বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাসস্থানের অবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে যা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে পৌঁছে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তারা ক্যাম্প-৪ এর ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১৮-এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮ ওয়েস্টের এমএসএফ হাসপাতাল এবং কুতুপালংয়ের ইউএনআইকিউএলও প্লান্ট ঘুরে দেখেন।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন স্মৃতি, এপিএস (এসএমও) মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং সহকারী সচিব জাহিদ হাসান শিহাব। সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, এনজিও ও আইএনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএ