দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ । সব খেলার তদারকির পাশাপাশি নিজস্ব ব্যয় নির্বাহে অনেকাংশে ফেডারেশনগুলোর ওপর নির্ভর করে সংস্থাটি। ১৯৯১ সালে মন্ত্রীপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব ফেডারেশন নিজেদের সারাবছরের গেটমানির প্রাপ্ত আয় থেকে ১০ শতাংশ এনএসসিকে দিতে বাধ্য। যদিও এর প্রয়োগ বাস্তবিক অর্থে খুব একটা নেই।
গেল ডিসেম্বরে বাফুফে নিজস্ব সভা শেষে জানায়, সম্প্রচার সত্ত্ব, বিজ্ঞাপন এবং টিকিট বিক্রি মিলিয়ে কেবল ঘরের মাঠে আয়োজিত সিঙ্গাপুর-হংকং-ভারতের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ থেকে আয় করেছে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। এই হিসেবে কেবল ছেলেদের ম্যাচ থেকেই এনএসসির প্রাপ্য ৬০ লাখ টাকার বেশি। যদিও এ ম্যাচগুলোর ব্যয়ের হিসাব দেয়নি বাফুফে। একইসঙ্গে এই সময়ে নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচ এবং নারীদের তিন জাতি টুর্নামেন্ট থেকে কত টাকা আয় হয়েছে সেই হিসাবও প্রকাশ করেনি বাফুফে। পরিশোধ করেনি এনএসসির প্রাপ্য টাকাও।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আমিনুল ইহসান বলেন, ‘আমরা বাফুফের কাছ থেকে এরকম টাকা আমরা এখনো পাইনি। তবে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি যে বাফুফের যে নেতৃত্ব আছে উনারা বিষয়টি উপলব্ধি করবেন।’
সবমিলিয়ে ধারণা করা যায়, কেবল জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার পরবর্তী এক বছরের মাথায় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে এনএসসির পাওনা প্রায় ১ কোটি টাকা। তবে ১৯৯১ সালের চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ বছরে ঠিক কত টাকা প্রাপ্য আছে বাফুফের, সেটার সঠিক তথ্য নেই কারো কাছেই।
আরও পড়ুন:
এছাড়া ২০০৮ সালে এনএসসি আদেশ অনুযায়ী, সম্প্রচার সত্ত্বের টাকা থেকেও ১০ শতাংশ পাওনা ক্রীড়া পরিষদের। লিগ এবং জাতীয় দলের খেলা সম্প্রচার করে আয় করলেও সেই অর্থও কখনো পরিশোধ করেনি বাফুফে।
এনএসসির এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হয় বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে। তবে অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বাফুফের অন্যতম শীর্ষ এই কর্তা শোনালেন বাফুফের আর্থিক অসক্ষমতার কথা। সেইসঙ্গে বাড়তি শোনা গেল বেশ কিছু আবদার।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমরা তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান না। এখান থেকে যদি টাকাটা আসে, টাকা কিন্তু আমাদের ঘরেও আসতে পারে না। ওই খেলা চালাবার যে খরচ, ওই খরচেই খরচ হয়ে যায়। আমাদের যদি স্ট্রাকচার দেয় যেখান থেকে আমরা রেভিনিউ নিতে পারবো, খুবই ভালো হয়। তখন আমরা সেলফ রিলায়েন্ট হয়ে যাই। আবার আমাদের যে সামান্য রেভিনিউ পাই, সেটাও যদি ওনারা নিয়ে নেয়, তাহলে তো আসলে লজিক্যাল হয় না।’
তবে ফাহাদ করিম বললেন, আলোচনা শেষে দ্রুতই এনএসসির পাওনা মিটিয়ে দিতে চান তারা।
তিনি বলেন, ‘ওভার দ্য টেবিল যখন ডিসকাশন হবে, স্পেশালি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সামনে সঙ্গে সঙ্গে রেখে যদি আমরা আলাপ করতে পারি এসব নিয়ে, ডেফিনেটলি উই উইল ফাইন্ড আউট এ সলিউশন।’
দেশের পিছিয়ে থাকা ফেডারেশনগুলোর অর্থ সংকট কাটাতেই মূলত লাভজনক খেলাগুলো থেকে আয়ের চুক্তি করে এনএসসি। তবে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির যেমন উদাসীনতা আছে তেমনি অনীহা আছে আত্মনির্ভরশীল ফেডারেশনগুলোর। এতে মোটাদাগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনই, মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





