নদী পার হয়ে রাজবাড়ী শহরের প্রবেশপথেই দেখা মেলে এক অন্যরকম দৃশ্যের। শহরের প্রধান সড়কে পা রাখতেই রাস্তার দু’পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন রক্তিম আবাহনে স্বাগত জানায় আগন্তুককে। গাছগুলো আপন মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে। ডালে ডালে লাল রঙের পসরা সাজিয়ে বসে থাকা এই ফুল যে কারও চোখে এনে দিচ্ছে শিল্পের দ্যোতনা।
রাজবাড়ী জেলার সর্বত্রই এখন গ্রীষ্মের প্রকৃতি সেজেছে কৃষ্ণচূড়ায়। সবুজ চিরল পাতার ফাঁকে ফাঁকে যেন আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে। এই তীব্র তাপদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন ক্লান্ত পথিকের মনে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে এই কৃষ্ণচূড়ার সুশীতল ছায়া। রোদে পুড়ে চলা পথচারীরাও পুলকিত নয়নে, অবাক বিস্ময়ে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন এই নিটোল সৌন্দর্য।
আরও পড়ুন
শুধু শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার আনাচে-কানাচে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ মেঠোপথের ধারে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। ছোট-বড় প্রতিটি গাছেই এখন ফুলের সমারোহ। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির, তখন এই লাল ফুলের মেলা পথচারীদের থমকে তাকাতে বাধ্য করছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘গন্ধে উদাস হওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী/কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি’। কবির সেই কাব্যিক অলংকার আজ হয়তো কিছুটা নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে, কিন্তু প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার কদর কমেনি এতটুকু। বরং, বর্তমান সময়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে এ গাছের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় শোভা বাড়াতে কৃষ্ণচূড়া অতুলনীয়। তাই শুধু চোখের প্রশান্তি নয়, বরং মানুষ ও প্রকৃতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজবাড়ীসহ সারা দেশে আরও বেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা।
প্রকৃতির এই রুক্ষ সময়ে কৃষ্ণচূড়া যেন এক পশলা স্বস্তির নাম। রাজবাড়ীর পথে পথে এখন সেই স্বস্তির আল্পনা এঁকে যাচ্ছে ‘গ্রীষ্মের আগুন’খ্যাত এই রক্তিম ফুল।





