মূলত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের একটি মন্তব্যের জেরে সেনা কমানোর এই ঘোষণা এসেছে। সম্প্রতি তিনি মন্তব্য করেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপদস্থ’ হচ্ছে এবং তেহরান নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়েছে। এমন মন্তব্যের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনব। এই সংখ্যা পাঁচ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জো বাইডেন প্রশাসন জার্মানিতে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি মার্কিন ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে এই পদক্ষেপের জন্য তদবির করে আসছিল। ফলে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বার্লিনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। সেনা কমানো ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন বাতিলের ফলে ইউরোপে মস্কোর অন্যতম বড় হুমকি জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়বে, যা প্রকারান্তরে রাশিয়ারই সুবিধা করবে।
তবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে চান। এটিকে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি সুযোগ বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির দুজন শীর্ষ নেতা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার এবং হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক রজার্স গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এসব সেনাকে ইউরোপ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়; বরং তাঁদের ইউরোপের আরও পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ রাশিয়ার কাছাকাছি স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পোল্যান্ড, বেলারুশ ও রাশিয়া। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন পোল্যান্ড। গত শনিবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের (ন্যাটো) জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখন বাইরের কোনো শত্রু নয়; বরং এর ভেতরের চলমান ভাঙন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, সবই করতে হবে।’
ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান ইস্যু এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কে এমনিতেই টানাপোড়েন চলছে। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৬ হাজার) মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া ইতালিতে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার সেনা রয়েছে। জার্মানির পাশাপাশি ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ বাড়াতে গত বছর রোমানিয়া থেকেও সেনাসংখ্যা কমিয়েছিল ওয়াশিংটন। ন্যাটো নেতাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এসব ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত ৩২ সদস্যের এই সামরিক জোটকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।





