ক্রমাগত আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে ইসরায়েলের নেতানিয়াহু প্রশাসন। রাজধানী তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে গেল ২ এপ্রিল হাজারো ইসরাইলি নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ করে। এসময় নিজ দেশের পতাকা, নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা, বিভিন্ন ছবি ও প্ল্যাকার্ড হাতে হাজারো ইসরাইলি এই নেতার বিভিন্ন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন।
রয়টার্স বলছে, যুদ্ধ বন্ধ, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অতি-কট্টরপন্থী ইসরাইলিদের বাইরে রাখার সরকারি পরিকল্পনা এবং ২০২৩ সালে তেল আবিবে হামাসের আক্রমণ সম্পর্কিত তদন্ত কমিশন গঠনে নেতানিয়াহু সরকারের অস্বীকৃতির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ হয়।
দ্য টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সমাবেশের আয়োজন করে মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট নামের একটি অতি রক্ষণশীল সংগঠন। ইতোমধ্যে ইসরাইলি ছাত্রদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং হামাসের আক্রমণ সংশ্লিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে সরকারকে বাধ্য করতে হাইকোর্টে আবেদন করেছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীরা বলেন, এখানে এসেছি কারণ, এই সরকার চায় আমার ছেলে ও অন্যান্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ না দিয়ে যুদ্ধে যাক। এছাড়া ২৩ সালের ৭ই অক্টোবর যা ঘটেছিল তার জন্য এই সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। অথচ এরপর কী ঘটবে তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা শুধু নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত।
তারা বলেন, আমরা যুদ্ধ, বোমা আর ধ্বংসের নেশায় আসক্ত। যুদ্ধের আইন নিয়েও আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এরকম পরিস্থিতিতে আমি কিছু আশাও করিনা, কারণ বিরোধী দল বা ভোটারদের মধ্যে কোনো বিকল্প দেখতে পাচ্ছি না।
বর্তমানে ইসরাইলে রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়, যারা হারেদি নামে পরিচিত, তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বাইরে রাখার বিতর্কটি বড় আকার ধারণ করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে দুই হাজার ৫শ'র বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।





