আগামী ৪ মে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৪টি আসনের ভোটের ফলাফল জানানো হবে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে ভোট গণনার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বুধবার রাত থেকেই বেশ কয়েকটি সংস্থার বুথ ফেরত জরিপে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তৃণমূল প্রার্থী মমতার দাবি, অর্থের বিনিময়ে জরিপের ফলাফল নিজেদের পক্ষে দেখাতে বাধ্য করেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, গণনায় কারচুপি হতে পারে এমন শঙ্কায় দলীয় কর্মীদের স্ট্রংরুম ও ভোটগণনা কেন্দ্রগুলোতে পাহারা দেয়ার নির্দেশ দেন মমতা।
এরপরই কলকাতার ক্ষুদিরাম ভোট গণনা কেন্দ্রের সামনে পাহারায় বসেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মানিকতলা, বেলেঘাটা, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, এন্টালি, চৌরঙ্গী, কাশিপুর-বেলগাছিয়া এই আসনগুলোর ইভিএম নিয়ে আসা হয়েছে এই কেন্দ্রে। সিসিটিভিসহ নিরাপত্তায় চলছে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি। সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না ভেতরে।
তবে ফলাফল প্রকাশের আগেই ভোট কারচুপি নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। ভোট গণনাকেন্দ্রের ভেতরে বহিরাগত লোক ঢুকেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এ সময় বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষুদিরাম কেন্দ্রে ছুটে আসেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগানের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন:
এদিকে ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোট গণনা কেন্দ্রে উপস্থিত হন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনায় কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা হুঁশিয়ারি দেন, কেউ যদি ইভিএম লুঠের চেষ্টা করে তাহলে জীবন-মরণ লড়াই হবে।
তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে পার্টি কোনো ম্যাটার না। আমার কথা হচ্ছে অধিকার প্রত্যেকেরই আছে। রাজ্য পুলিশ নিজেরা যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে তাহলে এখন তো আমার হাতে নেই। ইলেকশন কমিশনের হাতে। তো তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব তারা পালন করতে না পারে, এটা তো তাদের ব্যর্থতা।
জবাবে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই আসনে মমতা যতোই চেষ্টা করুক, নিয়মের বাইরে গিয়ে বাড়তি সুবিধা নিতে পারবেন না।
বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেই এজেন্টরা বসতে চায়নি, তো কাউন্টিংয়ে কে যাবে? কাউন্টিংয়ে ওদের লোকই যাবে
যদিও ভোট কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করে মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা মনোজ আগারওয়াল জানান, তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
এসব ঘটনার পর দুইটি ভোট গণনা কেন্দ্রেই নতুন করে জোরদার করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি জনসমাগম নিষিদ্ধে জারি করা হয় ১৬৩ ধারা।





