চট্টগ্রামে দুই দিনের জলাবদ্ধতায় পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রামে দুই দিনের জলাবদ্ধতায় বড় আর্থিক ক্ষতির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর উদ্যোক্তারা। পানিতে তলিয়ে কেউ হারিয়েছেন সারা জীবনের পুঁজি, কেউ বা মালামাল, পণ্য হারিয়ে দিশেহারা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিতে নষ্ট হয়েছে শত শত দোকানের পণ্য। পানি নামলে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট হয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। দোকানিদের দাবি, শুধু প্রবর্তক ও মেডিকেল সড়কেই ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪-৫ কোটি টাকা। প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় এভাবে নগরবাসী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও এ নিয়ে কোনো গবেষণা বা সহায়তা পান না তারা। খোঁজ নেয় না কোনো সংস্থা।

পানিতে ভাসছে মেডিকেল রোডের ফার্মেসির দোকান। জীবন বাঁচানোর ওষুধ থেকে দামি সার্জিক্যাল পণ্য সবই তলিয়ে গেছে কোমর পানিতে। জলাবদ্ধতায় মেডিকেল রোডে সারি সারি ওষুধের দোকানের একই চিত্র। পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে মূল্যবান ডিজিটাল ব্লাড প্রেশার মেশিন, নেবুলাইজার , অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ।

একই চিত্র নগরীর প্রবর্তকে রবিউলের খাবারের দোকান। জীবনের অর্জিত পুঁজি এক করে দুই বছর আগে দোকানটি চালু করেন এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গত দুদিনের জলাবদ্ধতায় তার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে পানির নিচে। নষ্ট হয়েছে দোকানে রাখা আসবাব, মালামাল। দুই দিনের জলাবদ্ধতায় ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা এ ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের যা পুঁজি ছিলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের ব্যবসার বড় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার পানি নামার পর স্পষ্ট হয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। এক একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা দোকানির নি:স্ব দশা। মালামাল বের করে কেউবা পরিষ্কার করছেন, কেউ ফেলছেন আবর্জনার ভাগাড়ে । একেবারেই নষ্ট হয়েছে কোন কোন পণ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি এখানকার ৩০ থেকে ৪০টি দোকানে অন্তত ৪-৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এমন অবস্থা নগরীর মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজারসহ বেশ কিছু এলাকার শত শত দোকানির।

আরও পড়ুন:

এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী বলেন, ‘দোকানে চাল, ডালের বস্তা রাখা ছিলো সবগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘প্রায় বুক সমান পানির ভেতর দিয়ে আমরা বাড়ি গিয়েছি। দোকানে রাখা টাকাও নিয়ে যেতে পারিনি।’

অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রতিবারই এমন ক্ষতির দেখার কেউ থাকেনা, আছে শুধু পরের বার সব হারানোর এক বুক আতঙ্ক। বছরের পর বছর বর্ষা মৌসুম এলেই লোকসানের মুখে পড়েন তারা।

নগরীতে প্রতিবছর ভবন, অবকাঠামো, ব্যবসা কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এমন ক্ষয়ক্ষতি হলেও এ নিয়ে কোন গবেষণা বা পরিসংখ্যান নেই কোনো সংস্থার, নেই তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও। তবে এবার ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে ভাববেন জনপ্রতিনিধিরা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যারা সেখানে আছে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো। যতটুকু পারবো আমরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৪ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতার কাজে তদারকির গাফিলতি ও দূরদর্শিতার অভাবে অর্ধযুগেও শেষ করা যায়নি প্রকল্পটি, যার মাশুল গুনছে নগরবাসী।

এফএস