আজ দুপুর ৩টার দিকে পদ্মার তীর ঘেঁষা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এরপর নানা ধাপ পেরিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে রূপপুরের প্রথম ইউনিট।
প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা চ্যালেঞ্জ, মহামারি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে প্রকল্পটির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে।
তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিনির্ভর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় কোর ক্যাচারসহ আধুনিক সুরক্ষা প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসেও টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এটি ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত সচল থাকতে পারে।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ফুয়েল বান্ডেল, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৫টি ইউরেনিয়াম রড। ইতোমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সংরক্ষণে রাখা হবে।
আরও পড়ুন
চুল্লিতে ইউরেনিয়াম স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফুয়েল লোডিং ও প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম মিলিয়ে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানো হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তাই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পারমাণবিক কেন্দ্র ঢাকা ও মস্কোর মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে।’
প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেল।’
রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশকে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবে পাশে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্থ করতে চাই নিরাপত্তা নিয়ে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতা থাকবে রোসাটমের।’





