প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলাকারীকে একজন ‘অত্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তি’ এবং ‘উন্মাদ একাকি নেকড়ে’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষ উন্মাদ এবং এদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’ এ ঘটনায় তার এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিজ্ঞতাটি ছিল অত্যন্ত ‘ট্রমাটিক।’
আসলে সব সময় আমার মতো বড় নামগুলোই লক্ষ্যবস্তু হয়।’
কেন তাকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ সাধারণত তাদেরই আক্রমণ করে যারা সমাজে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।’ এ সময় তিনি আততায়ীর হাতে নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বড় নামগুলোই মূলত লক্ষ্যবস্তু হয়। আমার প্রশাসন দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে, যা অনেকে পছন্দ করছেন না।’
হামলার সেই মুহূর্ত
গুলিতে সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি গুলির শব্দ শুনেছিলেন কিন্তু শুরুতে তা বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি একটি শব্দ শুনেছিলাম এবং ভেবেছিলাম কোনো ট্রে পড়ে যাওয়ার শব্দ। আমি আশা করছিলাম ওটা যেন ট্রে পড়ার শব্দই হয়, কিন্তু তা ছিল না।’
ট্রাম্প জানান, তিনি তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে চাননি। তার ভাষায়, ‘আমি থাকার জন্য লড়াই করেছিলাম। কিন্তু সিক্রেট সার্ভিস আমাকে প্রটোকল অনুযায়ী সরিয়ে নেয়, কারণ তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে হামলাকারী একাই ছিল কি না।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ফুটেজ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলারের সমাবেশে হওয়া হামলার চেয়ে আজকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ব্রিফিংয়ের আগে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ ও হামলাকারীর ছবি শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, মেটাল ডিটেক্টর এড়িয়ে বলরুমের দিকে তেড়ে আসা এক ব্যক্তিকে নিরাপত্তাকর্মীরা বন্দুক তাক করে থামিয়ে দিচ্ছেন।
আগামী পরিকল্পনা
ট্রাম্প জানান, স্থগিত হওয়া এই নৈশভোজ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় আয়োজন করা হবে এবং তা হবে আগের চেয়ে বড় ও জমকালো। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আজ রাতে আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর বক্তব্য দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে পরের বার আমি হয়তো খুব বিনয়ী বক্তব্য দেব।’
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীর ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ট্রাম্প গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।’





