পায়রা, বিষখালী আর বলেশ্বর-তিন নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে ওঠা এক সবুজ জনপদ হরিণঘাটা। বিশাল জলরাশি আর সবুজের নিবিড় নির্জনতা এখানে তৈরি করেছে এক মায়াবী পরিবেশ। পাখির কলরবে মুখর এ বন পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে।
হরিণঘাটার বিকেলগুলো সবচেয়ে নীরব। বনের ভেতরের সরু খাল ধরে নৌকা বা ট্রলারে চললে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই পথ দেখিয়ে নিচ্ছে। পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়-কখনো খালের শান্ত জল, কখনো চর, কখনো সৈকতের কাছাকাছি জলরাশি। আর এসব দেখে মুগ্ধ এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও। এক সঙ্গে নদী, বন, সাগর সব দেখা যায় এখানে তাই ঘুরতে আসছেন বলছেন ভ্রমণ পিপাসুরা।
আরও পড়ুন:
২০১৫ সালে ইকো-ট্যুরিজম স্পট হিসেবে ঘোষণার পর এখানে নির্মাণ করা হয়েছিল ফুট ট্রেইল, বিশ্রামাগার ও ওয়াচ টাওয়ার। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব এবং দীর্ঘদিনের অযত্নে এখন অনেকটাই ধ্বংসস্তূপের মতো। বনের ভেতরে চলাচলের একমাত্র ফুট ট্রেইলের স্লাবগুলো ভেঙে গেছে। সবচেয়ে করুণ দশা খালের ওপর ঝুলন্ত সেতুটির, যা পর্যটকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক।
বিশাল এ বনাঞ্চল থেকে গত এক বছরে বন বিভাগ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আয় করলেও সংস্কারে নেই কোনো জোরালো উদ্যোগ। বন বিভাগের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসন বলছে, চাহিদা অনুযায়ী চাওয়া হয়েছে বরাদ্দ। একজন বন কর্মী বলেন, ‘আমারদের সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।’
বরগুনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। আর এই বরাদ্দ কম দিয়েই আমরা কাজ করতে হচ্ছে। আমরা বন বিভাগকে জানিয়েছি তারা বরাদ্দ না দেয়া পর্যন্ত কাজ করতে পারবো না।’
প্রকৃতি প্রেমীদের প্রত্যাশা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হরিণঘাটা হয়ে উঠতে পারে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।





