নাসার বিজ্ঞানী থেকে পারমাণবিক গবেষক —নিখোঁজ একের পর এক

তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্পের

নিখোঁজ হওয়া বিজ্ঞানী মাইকেল ডেভিড হিকস
নিখোঁজ হওয়া বিজ্ঞানী মাইকেল ডেভিড হিকস | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের (United States) মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার (Space and Nuclear Research) সঙ্গে যুক্ত একের পর এক বিজ্ঞানী ও গবেষক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হচ্ছেন অথবা মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন নাসার (NASA) জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির প্রকৌশলী, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (Los Alamos National Laboratory) কর্মী এবং পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ঠিকাদার। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (President Donald Trump) নিজেই। দ্য মিরর ও নিউ ইয়র্ক পোস্টের (The Mirror and New York Post) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

চলতি মাসের ১৬ তারিখ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি ঘটনাগুলো নিছকই কাকতালীয় (Coincidence)। তবে আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবো।’

বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর (Extremely Serious) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে অনেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, তিনি এরইমধ্যে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (High-level Meeting) অংশ নিয়েছেন এবং শিগগিরই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন:

‘জীবন বিপদে’— তরুণ বিজ্ঞানীর চাঞ্চল্যকর দাবি

মৃত বিজ্ঞানীদের তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম অ্যামি এসকেরিজ (Amy Eskridge) (৩৪)। অ্যান্টিগ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষবিরোধী প্রযুক্তি (Anti-gravity Technology) নিয়ে গবেষণারত এ বিজ্ঞানীকে ২০২২ সালের ১১ জুন আলাবামার হান্টসভিলে নিজের মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারীরা ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যা’ (Suicide) বললেও তদন্তের বিস্তারিত কোনো তথ্য আর প্রকাশ করা হয়নি।

তবে মৃত্যুর পর প্রকাশিত অ্যামির এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখানে তিনি নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তার মৃত্যু হলে সেটা আত্মহত্যা নয়, বরং এটি হবে এক সুপরিকল্পিত হত্যা ষড়যন্ত্র (Planned Assassination Conspiracy)। কংগ্রেসে জমা দেয়া একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনেও (Independent Investigation Report) একই দাবি করা হয়।

অ্যামি এসকেরিজ |ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের এক পডকাস্টে (Podcast) অ্যামি এসকেরিজ বলেছিলেন, ‘আমাকে আমার গবেষণা দ্রুত প্রকাশ করতে হবে, কারণ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে এটি চলছে এবং গত ১২ মাসে তা তীব্র আকার নিয়েছে—এমনকি আমাকে যৌন হুমকি (Sexual Threat) পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে।’ অ্যামি তার বাবা রিচার্ড এসকেরিজের সঙ্গে ‘দ্য ইনস্টিটিউট ফর এক্সোটিক সায়েন্স’ (The Institute for Exotic Science) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল অ্যান্টিগ্র্যাভিটি প্রযুক্তি (Anti-gravity Technology) প্রকাশ্যে আনা। তার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

রহস্যজনকভাবে মৃত ও নিখোঁজ আরও যাদের নাম রয়েছে (More Names of Mysterious Deaths and Disappearances)

অ্যামি ছাড়াও গত কয়েক বছরে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীর অস্বাভাবিক মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • নুনো লুরেইরো (Nuno Loureiro): এমআইটির পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী (MIT Nuclear Physicist)। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বোস্টনে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় এক সাবেক সহপাঠীকে গ্রেপ্তার করা হলেও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণার (Nuclear Fusion Research) কারণেই তিনি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
  • কার্ল গ্রিলমেয়ার (Carl Grillmair): ক্যালটেকের পদার্থবিজ্ঞানী ও নাসার সহযোগী গবেষক। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
  • মাইকেল ডেভিড হিকস ও ফ্র্যাংক মাইওয়াল্ড (Michael David Hicks & Frank Maiwald): নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির (JPL) এই দুই গবেষক যথাক্রমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মারা যান। তাদের দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
  • জেসন টমাস (Jason Thomas): ক্যানসার চিকিৎসা গবেষক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিখোঁজ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চে ম্যাসাচুসেটসের একটি হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, এতে অপরাধমূলক কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
  • উইলিয়াম নিল ম্যাককাসল্যান্ড (William Neil McCasland): মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল (Retired US Air Force General) ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। ইউএফও কর্মসূচি (UFO Program) নিয়ে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

এছাড়া নাসার জেপিএলের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার মনিকা জাকিন্তো রেজা, লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (Los Alamos National Laboratory) কর্মী মেলিসা কাসিয়াস ও সাবেক কর্মী অ্যান্থনি শেভেজ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান প্রস্তুতকারী সরকারি ঠিকাদার স্টিভেন গার্সিয়া গত এক বছরের মধ্যে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ (Mysterious Disappearance) হয়েছেন। এদের কারও সন্ধান এখনো মেলেনি।

আরও পড়ুন:

এএম