প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মূলত যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ, কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে হ্যান্ডসেটের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদার অভাব—এই ত্রিমুখী কারণে বাজারের এ হাল। যদিও এ সময় বাজারে একাধিক নতুন মডেলের ডিভাইস বাজারে আরা হয়। তবুও খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রার মানের ওঠানামার কারণে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কোম্পানি তাদের নতুন পণ্য বাজারজাতের সময় এগিয়ে আনতে বাধ্য হয়।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সিনিয়র বিশ্লেষক প্রাচীর সিং বলেন, ‘স্মার্টফোন বাজার এখন একটি স্পষ্ট ‘‘অ্যাফোর্ড্যাবিলিটি স্কুইজ’’ বা ক্রয়ক্ষমতার সংকটের মধ্যে রয়েছে। মেমোরি চিপের আকাশচুম্বী দাম এবং কারেন্সি প্রেসারের কারণে কোম্পানিগুলোর জনপ্রিয় মডেলগুলোর দাম গড়ে দেড় হাজার রুপি বেশি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে ১৫ হাজার রুপির নিচের সেগমেন্টটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকেও দৈনন্দিন ব্যয়েও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ফলে তারা নতুন স্মার্টফোনের পরিবর্তে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
কাউন্টারপয়েন্টের প্রতিবেদনে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অবস্থান ও বাজার হিস্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। সেদিক থেকে ভারতের বাজারে আইকিউওওকে বাদ দিয়ে ২১ শতাংশ শেয়ার নিয়ে সবার উপরে রয়েছে ভিভো।
মিড-প্রিমিয়াম সেগমেন্টে তাদের ‘ভি’ সিরিজের জনপ্রিয়তা এবং শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এ সাফল্য এনে দিয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্যামসাং। তাদের গ্যালাক্সি এ-সিরিজ এবং প্রিমিয়াম এস২৬ সিরিজের রেকর্ড প্রি-বুকিং কোম্পানিটিকে ভালো অবস্থানে রেখেছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার রুপির দামের ফোনে স্যামসাং সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছে।
ওয়ানপ্লাস বাদে ১৪ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অপো। শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে অপো-ই সবচেয়ে দ্রুত (৮%) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাদের বাজেট ফ্রেন্ডলি এ ও কে সিরিজ এবং মিড-প্রিমিয়াম রেনো সিরিজ ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।
চীনা কোম্পানি শাওমি চতুর্থ অবস্থারে রয়েছে। ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার রুপি দামের ফোনে তারা দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাদের নতুন রিটেইল কৌশল এবং নির্দিষ্ট কিছু ‘হিরো মডেল’-এ মনোযোগ দেওয়ায় ভালো ফল মিলেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ডিরেক্টর তরুণ পাঠক জানান, সামনের দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন বাজার দুই অঙ্কের পতনের সম্মুখীন হতে পারে। কেননা গত নয় মাসে মেমোরি চিপের দাম প্রায় ৪ গুণ বেড়েছে। ফলে পুরো বছরের হিসেবে ভারতের স্মার্টফোন বাজার ১০% সংকুচিত হতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোম্পানিগুলো এখন ভলিউম বা সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে প্রিমিয়াম ফোনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনে বেশি মনোযোগ দেবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ফোনের দাম না কমলে এ বাজার সহজে ঘুরে দাঁড়াবে না।





