ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল-পেট্রোল-অকটেল সংগ্রহ নিত্যদিনের চিত্র। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপেক্ষার প্রহর। কোনো পাম্পে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেলের দেখা পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
রাজধানীর আরামবাগ, শাহবাগ ও তেজগাঁওয়ে পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। যা পাম্প ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ফুয়েল পাশধারীদের ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ও পাশ ছাড়াদের ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার অকটেন দেয়া হচ্ছে। প্রাইভেটকারে দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার এবং কাভার্ডভ্যান ও বাসে ৩০ থেকে ৬০ লিটার জ্বালানি দেয়া হচ্ছে।
গ্রাহকরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকায় শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি স্বাভাবিক কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া রাইড শেয়ারকারীদের আয়ও কমেছে। কোথাও কোথাও সিরিয়াল ভঙ্গ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
আরও পড়ুন:
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের সারা দিন চলে যায় পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে। ফলে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে চাকরিজীবীসহ সব পেশার মানুষদের। অনেক সময় দেখা যায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও মিলছে না তেল। ফলে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দ তেল দিয়ে চাহিদা পুরোপুরি পূরণ সম্ভব নয়। ফলে সার্বক্ষণিক তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পাম্প কর্তৃপক্ষদের একজন বলেন, ‘১৩ হাজার ৫০০ লিটার তেল পেয়েছি আর ১ গাড়ি অকটেন পেয়েছি। চাহিদার তুলনায় কম তেল পাচ্ছি। যেখানে তিন গাড়ি তেল প্রয়োজন সেখানে এক গাড়ি তেল পাচ্ছি।’
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানির অভাবে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এসময় এপ্রিল ও মে এই দুই মাসের জ্বালানি মজুত থাকার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। জুন মাসের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সরকার কাজ করছে বলে আরও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কখনোই হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি বর্তমানে মজুত রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি দেশে ৬ সপ্তাহের চাহিদার অনুযায়ী জেট ফুয়েল রয়েছে।’
বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে আরও জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।





