সোনারগাঁয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে বৈশাখের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে টানা সাত দিন। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলাটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের গবেষণা কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক মাসুদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। সবাইকে এই মেলায় আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মেলায় স্থান পেয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন কারুশিল্প। বিশেষ করে জামদানি শাড়ি ও নকশি কাঁথার স্টলগুলো দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্টল মালিকরা জানান, তারা নিজেরাই এসব পণ্য তৈরি করেন এবং মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পণ্যের প্রচার ও বিক্রির সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন:
পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসে দর্শনার্থীরা আনন্দে মেতে উঠেছেন। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করতে পেরে তারা দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মেলার অন্যতম আকর্ষণ নাগরদোলা, যেখানে চড়ে আকাশছোঁয়া রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা এবং উপর থেকে পুরো মেলার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন।
শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বায়োস্কোপ, যা তাদেরকে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। বায়োস্কোপ দেখে শিশুরা দারুণ আনন্দ প্রকাশ করেছে।
লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে সোনারগাঁয়ের এ বৈশাখী মেলা নববর্ষ উদযাপনের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি যেমন নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত করছে, তেমনি বাঙালির চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও তুলে ধরছে।




