ঈদ আনন্দে বিষাদের আঁচড়। ঘটনা বদলায়, বদলায় ঘটনাস্থল। ঈদযাত্রার মৃত্যুর টালিখাতায় যুক্ত হয় নতুন নাম পরিচয়! সড়ক, রেল কিংবা নৌপথে স্বপ্ন ভঙ্গ বহু পরিবারের।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণে ওঠে আসে, ঈদে সড়কে অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, ফিটনেসবিহীন গাড়ির আধিক্যসহ নানা কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। পুলিশের গবেষণা বলছে, ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি।
সড়ক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ঈদের আগে-পরে গেল ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৭৩টি। ঈদের আগে-পরে এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ২৯৮ জন। গেল বছরের ঈদযাত্রার ১১ দিনে যে সংখ্যা ছিল ২৪৯ জন।
তবে সরকারি পরিসংখ্যানে সে সংখ্যা অনেকটাই কম। চলতি বছর ঈদযাত্রার ১১ দিনে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৭০ জন। আহত দুই শতাধিক।
বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটাতে সরকারকে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন দ্রুত কার্যকরের তাগিদ তাদের।
আরও পড়ুন:
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান শুধু সড়ক পরিবহন না। গণ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিদ্যমান কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা আছে এ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জায়গায় সংস্কার করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঠামোগত দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা আর শৃঙ্খলার অভাবেই বেড়েছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার। এ সমস্যা সমাধানে পরিবহন খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দেন তারা।
বুয়েট অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মোহাম্মদ হাদীউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের যাত্রীরা ঈদের সময় ভাড়ার কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। পরিবহনের যে নেতা আছে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে। এটা টেকনিক্যাল না, রাজনৈতিক সমস্যা। তো রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছায় এটা সমাধান করা সম্ভব। বিশেষ করে পরিবহনখাতে যারা নেতৃত্ব দেন তারা যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন তাহলে কিন্তু পরিবর্তন হবে না।’
সড়কে মৃত্যুর মিছিল না কমলেও এবারের ঈদযাত্রাকে স্বস্তির বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। দুর্ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ভুলত্রুটি শুধরে নেয়ারও আশ্বাস তার।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম রবি বলেন, ‘কোথাও কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেটার জন্য আমরা দুঃখিত। জাতি দুঃখিত, ভারাক্রান্ত। এর সাথে যাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তদন্ত করে সেগুলো দেখতে হচ্ছে। আর যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি।’
ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে সড়কে মৃত্যুর মিছিল রোধ হবে; আশা বিশ্লেষকদের।





