আজ (শনিবার, ৪ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে চালকের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি তাৎক্ষণিক এ নির্দেশনা দেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন কোনো যন্ত্র পড়ে থাকলে এমনিতেই বিকল হয়ে যায়। আউটসোর্সিং বা অন্য কোনো উপায়ে অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও চালু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি। দ্রুতই ড্রাইভার নিয়োগের মাধ্যমে আমরা আবারও সেবাটি চালু করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। তবে দ্রুতই আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে চাই। এরইমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে চালক নিয়োগের ব্যবস্থা করবো। যাতে করে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে পারে।’
হাসপাতালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দুর্গাপুরের পাশাপাশি কলমাকান্দা ও পার্শ্ববর্তী ধোবাউড়ার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নেন। ফলে প্রতিনিয়ত এখানে রোগীদের চাপ থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবাসন সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবের কথা নোট করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
আরও পড়ুন:
হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্লিনিকগুলোর প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনেকের লাইসেন্স আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। যেহেতু মানুষ হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে সেখানে যাচ্ছে, তাই মাঝেমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা উচিত।’
নেত্রকোণার পাহাড়ি সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের একমাত্র ভরসা এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে চালক সংকটে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সরকারি রেটে যেখানে ভাড়া ১ হাজার ২৩০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ যেতে রোগীদের গুণতে হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। রাতের বেলা এ ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালটি ১৯৯৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে দুইটি আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে এবং বাকি তিনটির মধ্যে দুইটি বিকল হয়ে গ্যারেজে পড়ে আছে। বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিলামের প্রক্রিয়াও বিআরটিএর ছাড়পত্রের অভাবে বছরের পর বছর ঝুলে আছে।
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩৪ জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন ১৮ জন, ১৬টি পদই শূন্য। ৩৮ জন নার্সের মধ্যে ১০টি পদ খালি। ৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের জায়গায় আছেন মাত্র ৩ জন। ৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর মধ্যে পদ শূন্য ১৬টি। এছাড়া ৩ জন ওয়ার্ড বয়ের একটি পদও পূর্ণ নেই এবং ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ১ জন।





