ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তার দাবি, ইরান এখন ভঙ্গুর দেশ, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর হুমকি নয়।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত ভাষণে নতুন তেমন কিছুই ছিল না। ২০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। তবে ভাষণকে অসাধারণ উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেন, সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি মার্কিন জনগণকে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত করতে পেরেছেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হয়েছে দাবি করে মার্কিন নাগরিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরপরই কঠোর বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান শিগগিরই শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর কঠোর আঘাত করা হবে। তাদেরকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেয়া হবে। ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়ার হুমকিও দেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের দাবি, এরইমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের নেতৃত্বও গুড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয় বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
যুদ্ধে অংশ নেয়া মার্কিন মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। এসব মিত্রদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেব না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। ইরানের হামলার পেছনে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই এই যুদ্ধ জরুরি ছিল। তার অভিযোগ, কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথে যুক্তরাষ্ট্র হাঁটলেও, তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয় তার দেশ। আর যুদ্ধ শেষ হলে এই প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই সচল হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ট্রাম্পের ভাষণের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন-প্রণেতারা। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভাষণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি।





