গাইবান্ধায় যমুনার দুর্গম চরে চাষ করা হয়েছে ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, কালোজিরা ও বাদামসহ নানা ফসল।
ফলন ভালো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসি ফোটে না কৃষকের মুখে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত শস্যের দাম পান না তারা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় মেলে না বিক্রির বাজারও। এতে চাষাবাদে ক্রমাগত আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এমন বাস্তবতায় সরকার ঘোষিত কৃষিকার্ডের সুবিধা জেনে খুশি চরাঞ্চলের মানুষ।
চাষিরা জানান, গতবার আলুতে অনেক লস হয়েছে। এবারও অনেক লস হয়েছে। জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সুবিধা না থাকায় নষ্ট হয়ে যায় অনেকসময়। কৃষি কার্ড যেন আসল কৃষককে দেয়।
আরও পড়ুন:
পার্শ্ববর্তী জেলা বগুড়াতে চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন হয় ১৩ লাখ টন। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১২ টাকা হলেও বিক্রি ভরা মৌসুমে বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ টাকা কেজিতে। এতে মোটা অঙ্কের লোকসানের শিকার হয় কৃষক। এ অবস্থায় কৃষক ও কৃষি বাঁচাতে ভর্তুকি দেয়ার দাবি ওঠে। সেই দাবি পূরণে কৃষিকার্ডকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।
কৃষক কার্ডের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষি গবেষক এবং কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এ ১০টি সেবার পাশাপাশি আরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সবার একটি হিসাব খোলা হবে। হিসাবের মাধ্যমে যে শিক্ষা স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে এ কৃষক কার্ড ব্যবহার করতে পারবে ডেবিট কার্ডের মতো।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রোস্তম আলী বলেন, ‘গাইবান্ধা যেহেতু একটি চর-বেষ্টিত এলাকা সেখানে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য সুবিধা পাবে এবং সার, বীজ অর্থাৎ তার ভর্তুকির সুবিধা। বন্যায় যে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ফসলের পণ্য-বিমা থেকে শুরু করে সরকারি সুবিধা পাবে।’





